অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা (২য় পর্ব)

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা (২য় পর্ব)

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা

মো. মিজানুর রহমান পলাশ : আমাদের দেশে প্রায় ১৩০ পদের খাবার রাস্তার পাওয়া যায়। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে শিঙ্গাড়া, সমুচা, ছোলা ভাজি, বেগুনি, আলুর চপ, ডালপুরি, ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি, পাকড়া, হালিম, ঝালমুড়ি, জিলাপি, লেবুর শরবত, আখের রস ইত্যাদি। এছাড়াও বাড়তি খাবার হিসেবে থাকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলু সেদ্ধ, সুপ, পোড়া পেঁয়াজ ও মরিচ, সালাদ, নুডলস ও হরেকরকম মিষ্টান্ন ইত্যাদি। রাস্তার খাবারের পুষ্টিগুণ থাকে অতি সামান্য এবং শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব থাকে বেশি।

এসব খাবারের খরিদ্দার রিকশাচালক, টোকাই, ছিন্নমূল মানুষ, হকার থেকে শুরু করে শিশু, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক, ধনী, গরিব সব শ্রেণির মানুষ। শিশুরাও এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় মা-বাবাও তাদের সন্তানদের এসব খাবার কিনে দেন। বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর আচার ও অপরিচিত ব্র্যান্ডের আইসক্রিম শিশুদের অতি প্রিয়। এসব খাবারের বেশিরভাগই বিএসটিআই কর্তৃক মান নির্ধারিত নয়। এসব খাবার শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। মা-বাবার উচিত শিশুদের ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ানো। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে শিশুদের জীবন বিপন্ন করার অর্থ নেই। শিশুরা অবুঝ বলে হয়তো অস্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করে ও খায়। একটু স্বাস্থ্য সচেতন হলে জীবন হবে সুন্দর, বিপদমুক্ত।

রাস্তায় খাবার তৈরি হয় আটা, ময়দা, বেসন, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও তেল দিয়ে। দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহার করার ফলে তা পুড়ে মানহীন হয়ে পড়ে। ফলে রোগ সৃষ্টি হয়। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় পরে ময়লা ও জীবাণুযুক্ত হাতে রাস্তার খাবার তৈরি করা হয় বলে এসব খাবার ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তার খাবার তৈরিতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় দূষিত পানি। খাওয়ার পানিও বিশুদ্ধ থাকে না। ফিল্টার করা পানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় না। থালা-বাসন বা পাত্রে খাবার পরিবেশিত হয়, সেগুলোতে প্রায়ই ক্ষতিকর জীবাণু থাকে। অপরিস্কার অবস্থায় একই প্লেটে বিভিন্ন ব্যক্তিকে খাওয়ানো হয়। রাস্তায় তৈরি বিভিন্ন ফলের রসে থাকে অসংখ্য জীবাণু।

যেসব যন্ত্রপাতি বা আনুষঙ্গিক সামগ্রী দিয়ে ফলের রস তৈরি করা হয় এবং যেসব গ্লাস বা পাত্রে তা পরিবেশিত হয়, সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ময়লা ও জীবাণুতে ভর্তি থাকে। তবে কোনো কোনো খাবার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তৈরি ও বিক্রি হয়, যার সংখ্যা অতি নগণ্য। রাস্তায় তৈরি খাবারে অনেক সময় নিষিদ্ধ উপকরণ ও রঙ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। খাবারকে আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক বিক্রেতা বস্ত্রশিল্পে ব্যবহূত ক্ষতিকর রং পর্যন্ত ব্যবহার করে থাকেন। এসব খাবারে আরো থাকে সিসার মতো ভারী ধাতু, যা শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *