অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা (৩য় পর্ব)

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা (৩য় পর্ব)

অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতনতা

মো. মিজানুর রহমান পলাশ : শীতকাল এলে রাস্তায় তৈরি খাবারের ধরণ পাল্টে যায়। শীতকালে উপরে উল্লেখিত খাবার ছাড়াও তৈরি ও বিক্রি হয় হরেক রকম পিঠা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভাপা পিঠা, পোয়া পিঠা এবং চিতই পিঠা। চিতই পিঠার সঙ্গে থাকে নানারকম ঝাল চাটনি ও গুড়। খেতে সুস্বাদু হলেও এসব খাবার তৈরি হয় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। যারা পিঠা তৈরি ও পরিবেশন করে, তাদের পরিধেয় কাপড়-চোপড় এবং হাত থাকে অপরিচ্ছন্ন। যে হাতে তারা টাকা লেনদেন করে, সেই হাতেই পিঠা তৈরি ও পরিবেশন করে। এতে পিঠা জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়। অনেক দরিদ্র নারী জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুটপাতে বসে রুটি তৈরি করে ভর্তা, তরিতরকারি বা গুড়সহ স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে।

সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পরিমিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, বিশুদ্ধ পানি, আঁশশজাতীয় খাবার নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন শাকসবজি-ফলমূল থাকা বাঞ্ছনীয়। শাকসবজি-ফলমূল হলো ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থ এবং আঁশজাতীয় দ্রব্যের অফুরন্ত ভান্ডার। ফলমূল, শাকসবজির প্রতি বাচ্চাদের প্রচণ্ড অনীহা। এ প্রবণতা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শাকসবজি-ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ খাবার শরীরের ওজন, হূদরোগ, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই শিশুকাল থেকেই ছেলেমেয়েদের শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ানোর অভ্যাস করতে

নিরাপদ খাদ্য সংস্থা ২০১৮ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দেশে প্রায় ৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন ও নীতিমালা রয়েছে। ৬৪টি জেলা ও আটটি বিভাগীয় শহরে ৭৪টি নিরাপদ খাদ্য আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী নানা সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার দেশের নাগরিকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুমোদন করেছে। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগীতা প্রদান এবং নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। আইনের আলোকে এবং গৃহীত উৎকৃষ্ট পন্থায় খাবার সবসময় এবং সকলের জন্য সর্বোচ্চ সুরক্ষায় ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পৌঁছানো কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব। একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হোক দেশে, যা দেশকে করবে আদর্শৃ এক দেশের প্রতিভূ। আর এ জন্য প্রয়োজন সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *