আঁধারে আলোর মশাল
মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ আজ রমজানুল মুবারকের রহমতের প্রথম দিন। নামমাত্র মুসলমানদের কাছেও রমজান মাস গুরুত্বপূর্ণ। আর করোনা ভাইরাসের বদৌলতে এবার আরো বেশি। আল্লাহ পাকের রহমত বন্টন শুরু হয়ে গেছে। সিরিয়ালে দাঁড়ানোর দরকার নাই। অলস সময় না কাটিয়ে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে বসলেই হবে। রহমতের বর্ষণ মুষলধারে শুরু হয়ে যাবে। আচ্ছা, আমি অন্যান্য ইবাদাতের কথা বাদ দিয়ে আগে কুরআনের কথা কেন বলছি? উত্তর শুনলে চমকে যাবেন পাঠক! স্বয়ং আল্লাহ তাআলা রমজান মাসকে মহিমান্বিত মাস ঘোষণা দিয়েছেন কুরআনকে কেন্দ্র করে। ‘রমজান মাস,যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথ প্রদর্শন ও সু -পথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক্ব ও বাতিলের প্রভেদ কারী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ সূরা বাক্বারা, আয়াত নং ১৮৫]
কি লাভ কুরআন পাঠে?
কথা বাড়িয়ে লাভ নেই চলুন, নবীজী সা.-এর মুবারক জবান থেকে শুনি কি লাভ কুরআন পাঠে।
১। হযরত আবু উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা কুরআন মাজিদ পাঠ কর, কেননা কেয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আগমন করবে। {মুসলিম শরীফ, হাদিস নং ৮০৪}
২। হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে পাক (সাঃ) ইরশাদ করেন, তোমাদের সর্ব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই; যে কুরআন মাজিদ শিখে এবং অপরকে শিখায়। (বুখারী শরীফ, হাদিস নং ৫০২৭)
৩। আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, কুরআনের হাফেজ মহাসম্মানিত পূণ্যবান লিপিকার (ফেরেশতাবর্গের) সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠে ‘ওঁ-ওঁ’ করে এবং পড়তে কষ্টবোধ করে, তার জন্য রয়েছে দু’টি ছওয়াব (একটি তেলাওয়াতের অপরটি তেলাওয়াতের জন্য কষ্টের)। {বুখারী শরীফ, হাদিস নং ৪৯৩৭ মুসলিম শরীফ, হাদিস নং ৭৯৮}
৪। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের একটি হরফ (অক্ষর) পাঠ করবে তার দশটি নেকি হবে। আর আমি বলছিনা যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ,লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। (অর্থাৎ তিনটি হরফ দ্বারা গঠিত “আলিফ-লাম-মীম” যার নেকীর সংখ্যা হবে ত্রিশ) { তিরমিজি শরীফ, হাদিস নং ২৯১০, হাসান}
আর রমজানে তো বাম্পার অফার এক নেকীতে সত্তর নেকীর সওয়াব তাহলে প্রতি হরফে ১০×৭০=৭০০ সুবহানাল্লাহ!!! দয়াময় মালিক ছাড়া এই সুযোগ আর কে দিবে বলেন?
বড় সৌভাগ্যবান হতে পারব যদি আল কুরআনকে সঙ্গী বানাতে পারি। হেলায় ফেলায় জীবনের মূল্যবান অনেক সময় ব্যয় হয়ে গেছে। কবি নজরুলের ভাষায় এখন এশার জামাত চলছে। এখনও যদি জামাতে শামিল না হতে পারি তাহলে আমার মতন অভাগা, দূর্ভাগা আর কে আছে আল্লাহর জমিনে?!
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


