৬০ জেলায় করোনা; মোট আক্রান্ত ৪৯৯৮, মৃত্যু বেড়ে ১৪০

৬০ জেলায় করোনা; মোট আক্রান্ত ৪৯৯৮, মৃত্যু বেড়ে ১৪০

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গত ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে ৩০৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমোট ৪ হাজার ৯৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হল। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৪০ জনের মৃত্যু হলো।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩ হাজার ৪২২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে ৩০৯টি নমুনা করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

এসময় তিনি উল্লেখ করেন যে, গতকাল শুক্রবার থাকায় কয়েকটি বেসরকারি পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হয়নি এবং সেখান থেকে কোন ফলাফল আসেনি।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ। তাদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে নাসিমা সুলতানা বলেন, ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই ষত্তোর্ধ্ব বয়সের। এছাড়াও ষাটোর্ধ্ব একজন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী একজন। এদের তিনজন ঢাকার বাসিন্দা। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে ও জয়পুরহাটের রয়েছেন দুজন করে এবং টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও মাদারীপুরের একজন করে রয়েছেন।

নাসিমা সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত দেশের ৬০টি জেলাতেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া জেলা দুটি হল বরিশালের ভোলা এবং রাজশাহীর নাটোর জেলা। এখন আর বাকী রইলো পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং খুলনা বিভাগের জেলা ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হলেও এতদিন ধরে ঘরে থাকাটা খুব কষ্টসাধ্য বলে বুলেটিনে উল্লেখ করেন নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘যারা এই নির্দেশনা মেনে চলছেন সামনের সারির না হলেও সবাই কভিড যোদ্ধা।’ সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি। এসময় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বই পড়া, বাগান করা এবং শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি।

যারা রোজা আছেন তাদের ইফতারের পর প্রচুর পরিমাণ পানিসহ তরল খাবার বেশি করে গ্রহণেরও পরামর্শ দেয়া হয় এসময়।

গেল বছর ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী ভাইরাসটিতে দেশে প্রথম আক্রান্ত শনাক্ত হয় গেল ৮ মার্চ। সেদিন তিনজন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এরপর মার্চ মাস শেষে পঞ্চাশ জনের মতো শনাক্তের কথা জানা গেলেও এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আক্রান্তের হার বাড়ে খুব দ্রুত।

গতকালকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৬৮ শতাংশ পুরুষ, ৩২ শতাংশ নারী। আর আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের বয়সসীমার ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ২৪ শতাংশ। এছাড়া ২২ শতাংশের বয়সসীমা ৩১-৪০ বছর, ১৮ শতাংশের বয়স ৪১-৫০ বছর, ১৫ শতাংশের বয়স ৫১-৬০ বছর এবং ১০ শতাংশের বয় ষাটের বেশি। বয়স ১০ বছরের কম এমন আক্রান্তের সংখ্যা ৩ শতাংশ। ৮ শতাংশের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *