আজকের সাহরি ও ইফতার
গত ৮ এপ্রিল ২০১৯ (সোমবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৪৪০ হিজরির রমজান মাসের সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী এবার প্রথম রমজানে সাহরির শেষ সময় ভোররাত ৩টা ৫২ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৬টা ৪৩ মিনিট।
রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাহরি ও ইফতারের সময় সূচি সর্বোচ্চ ১১ মিনিট যোগ করতে হবে এবং ১০ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, সাহরির শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবহে সাদেকের ৩ মিনিট আগে ধরা হয়েছে এবং ফজরের ওয়াক্তের শুরুর সময় সুবহে সাদেকের ৩ মিনিট পর রাখা হয়েছে।
গ্রহণের জন্য সতর্কতামূলক শেষ সময়ের ৬ মিনিট পর ফজরের আজান দিতে হবে। আবার সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলকভাবে ৩ মিনিট বাড়িয়ে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা কোন বান্দার পক্ষে সম্ভব নয়। জন্মের পর থেকে মৃত্যুর পর্যন্ত যদি কোন ব্যক্তি শুধু আল্লাহর প্রশংসা এবং শুকরিয়া আদায় করে, তবুও আল্লাহর প্রশংসা এবং শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করি তিনি আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।
নেক আমলের সওয়াব বান্দা তার ইখলাসে নিয়ত অনুযায়ী পাবে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের সওয়াব সর্বনিম্ন সত্বরগুণ বৃদ্ধি করে দেন। আর সর্বোচ্চের কোন পরিমাণ নেই। বান্দার তার ইখলাসে নিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ সওয়াব পাবে। রমজানে নেক আমলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেওয়ার আহ্বান জানান আল্লামা মাসঊদ।
মুমিন কখনো পরিকল্পনা করে গুনাহ করে না মন্তব্য করে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর এ খলীফা বলেন, মুমিনের গুনাহ হঠাৎ করে যায়। মুমিন কখনো ইচ্ছে করে পরিকল্পনা করে গুনাহ করে না। যে ব্যক্তি পরিকল্পনা করে গুনাহ করে সে কখনোই মুমিন হতে পারাবে না। তিনি বলেন, মহিমান্বিত এ মাসে যদি নফল ইবাদত করা সম্ভব না হয়, তাহলেও আমরা লক্ষ্য রাখবো আমাদের যেন কোন গুনাহ না হয়। ভুলক্রমে হয়ে গেলো সাথে সাথে তওবা করে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
রমজান মাসকে ধৈর্যের মাস উল্লেখ করে মাওলানা নাসীম আখতার কাসেমী বলেন, এমাস হচ্ছে ধৈর্যের মাস। আর এ সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এমাসে মানুষ সারাদিন অভুক্ত থেকেও ক্লান্ত হয় না। সারাদিন পিপাসার্ত থেকেও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা রাখতে পারে। অথচ, অন্যান্য মাসে এক বেলা না খেলে শারীরিক দুর্বলতা এতই বেড়ে যায় , হাঁটাচলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। রোজাদাররা সামান্য কষ্ট অনুভব করলেও ধৈর্য ধারণ করে। অনাহারেও ভেঙে পড়ে না। পানির তৃষ্ণা সহ্য করে। এজন্য আল্লাহ তা’আলা বান্দার উপর বিশেষ রহমত নাজিল করেন। এ মাস আমাদেরকে উদারতার শিক্ষা দেয়। তাই, এমাসে যথাসাধ্য গরীব-মিসকিনদের বেশী বেশী দান-সাদকা করতে হবে।
মাওলানা আখতার কাসেমী রমজানের ইবাদত বন্দেগীর উপর বিস্তারিত আলোকপাত করে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে চারটি ইবাদত বেশী বেশী করতে বলেছেন।
১. অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা।
২. বেশী বেশী কালেমা তাইয়্যিবা ও কালেমায়ে শাহাদাত পড়া।
৩. জান্নাত তালাশ করা ও
৪. জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়া।
ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ঘোষিত সময়সূচি হলো-



