আজি কে যে রাজাধিরাজ কাল সে যে ভিক্ষা চায়
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : কেউ কাউকে সত্যিকারের অর্থে সমর্থন করে না, যদিও মুখে অন্য রকম। চলে যাওয়ার সময় এটা উপলব্ধি করা যায়। আমি থাকলেই কি, বা না থাকলেই কি? এরশাদ আজ লাইফ সাপোর্টে। একদিন ছিল যে দিন রাজ্যের লোক তাকে ঘিরে। তাই গানটি খুবই অর্থবহ। ‘হায় চির দিন, কাহারও সমান নাহি যায়, আজি কে যে রাজাধিরাজ কাল সে যে ভিক্ষা চায়’। আমার মরণ কামনা কেউ করে, তা মনে হয় না। কিন্তু চলে গেলে পৃথিবীর কি এসে যায়?
যায় না। সত্যি যায় না।
হাসি গান বেদনা সবই সাময়িক। পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক মুহূর্তে মূল্যহীন হয়ে পরে স্বার্থের কারণে। যারা স্বার্থের উপরে উঠতে পারে তারাই মহৎ। একদিন বিবেকানন্দ ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেলেন, আজ ৪ঠা জুলাই তার মহাপ্রয়ানের দিন। সকালটা কাটিয়ে দিলেন সাথিদের সঙ্গে, ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেলেন। দুপুরে ঘুমালেন। সন্ধ্যায় মিলিত হলেন প্রভুর সঙ্গে। আমি কবে চলে যাব তার দিনক্ষণ আমার জানা নেই। যাওয়ার আগে প্রস্তুতি, সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। কাউকে বাঁকা চোখে দেখব না। সবাই আমার বন্ধু।
নজরুল লিখছেন, ১৩৩৪ চৈত্র মাসে এই কবিতাটি:
‘নাই বা পেলাম কণ্ঠে আমার তোমার কণ্ঠ হার
তোমায় আমি করব সৃজন-এ মোর অহঙ্কার।
এই ত আমার চোখের জলে,
আমার গানে সুরের জলে,
কাব্যে আমার, আমার ভাষায়, আমার বেদনায়
নিত্যকালের প্রিয়া আমায় ডাকছে ইশারায়
নাই বা দিল ধরা আমার ধরার আঙ্গিনায়
তোমায় চিনে গেলাম সুরের স্বয়ম্বর সভায়
তোমার রূপে আমার ভুবন
আলোয় আলোয় হ’ল মগন
কাজ কি জেনে কাহার আশায় গাঁথছ ফুল-হার
আমি তোমার গাঁথছি মালা,এ মোর অহঙ্কার’।
মালা গেঁথে চলেছি। এটাই আমার সৃজন, এটাই আমার অহঙ্কার। মালা মুখ্য নয়। কে পাবে তা মুখ্য নয়। আমি নিত্যকালের জন্যে লিখছি। এইটাই কবির অহঙ্কার।
মু. জা. আ.
২৪শে আষাঢ়, ১৪২৬


