আত্মরক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান মাহমুদ মাদানীর
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে চলমান মুসলিম নির্যাতনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই। কিন্তু পেটানোর জবাবে আক্রান্তকেও পাল্টা পিটাতে হবে। যদি কেউ না বুঝে শাস্তির কথা বলা সত্ত্বেও জুলুমে লিপ্ত হয় তবে সেলফ ডিফেন্স বা আত্মরক্ষার অধিকার সব নাগরিকের আছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামা হিন্দ আয়োজিত ‘আমন ও একতা সম্মেলন’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, ঝগড়া বা জুলুম করা ইসলামের শান নয়। যদি কেউ লর্ড রাম ও কৃষ্ণজিকে অপমান করে, তবে জেনে রাখুন তা ইসলামে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসূল সা.-এর একটি হাদীসে আছে- তোমরা কি তোমাদের মা-বাবাকে গালিগালাজ করবে? সকলে বললো, কেউ কি তার মা-বাবাকে গলিগালাজ করে? রাসূল সা. বললেন, তুমি যদি তোমার মা-বাবাকে গালিগালাজ না করে অন্য একজনের মা-বাবাকে গালিগালজ করো, তাহলে একই ধরনের গুনাহ হবে।
সারা পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলমানরা মাজলুম উল্লেখ করে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেকেরাটারি বলেন, মুসলমানদের কলিজা অনেক শক্ত। শক্ত আছে বলেই সারা পৃথিবীর মুসলমানরা অত্যাচার-জুলুম বরদাশ করে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে মুসলমানরা মাজলুম, কিন্তু সব থেকে বেশি মাজলুম হচ্ছে ইসলাম। আর তা মুসলামনদের হাতে। কারণ, মুসলমানরা পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের অনুসরণ না করে, বিশ্বের সামনে ইসলামের যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলছে, তা সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ইসলামকে।
সম্মেলনে গ্রন্থাগার দফতরের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রকৃত ধর্মে হিংসা-বিদ্বেষ শেখায় না। ভারতবর্ষ হল সুবিশাল দেশ। এখানে ১৩০ কোটি মানুষের বাস। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই হল ভারতের রক্ষাকবচ।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে প্রত্যেক জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিযুক্ত করতে হবে যারা গণপিটুনির বিষয়ে নজর রাখবেন। আমরা চাই ভারতের প্রত্যেক রাজ্যে যে ‘ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী’ আছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার আইন পাস করুক। যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, রাষ্ট্রের নামে দাঙ্গা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন তৈরি হোক।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ভারতের সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য ওরা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকার গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে ভারতে বজরং দল সব থেকে বড় সন্ত্রাসী দল! এটা আমার আপনার রিপোর্ট নয়, এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা রিপোর্ট। দেশের যে কতখানি ক্ষতি তারা করেছে সেই দিকে কর্নপাত নেই তাদের।
জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি স্বাধীনতা আন্দোলনে জমিয়তের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ ভারতের প্রাচীন বলিষ্ঠ ও দায়িত্বপূর্ণ সংগঠন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাইপো শিশির বসু বলেছিলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ যদি আন্দোলনের ডাক না দিত ভারতের স্বাধীনতা একশ বছর পিছিয়ে যেত। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হত না।
রাজ্যসভার সদস্য ও দৈনিক ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান বলেন, আমরা কারও দয়ায় এই ভারতে বসবাস করি না। এই ভারতে আমরা হাজার বছর ধরে রয়েছি। এই ভারতের আমরা ভূমিপুত্র। আমাদেরকে এনআরসির নামে বিদেশি বলে ঘোষণা করবে এই কাজ আমরা হতে দেব না।
তিনি বলেন, আমরা ভারতকে এতই ভালোবাসি! আমরা মৃত্যুর পরেও এখানকার মাটিতে কয়েক হাত নিচে শুয়ে থাকি। মারা যাওয়ার পরেও আমরা ভারতকে ছেড়ে যাই না। আমার আমাদের ঈমান নিয়ে আমাদের অধিকার নিয়ে এখানে বেঁচে থাকতে চাই।
সম্মেলনে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডের ইমামে ঈদায়েন ও বিশিষ্ট আলেম কারী ফজলুর রহমান, বৌদ্ধ ভিক্ষুক, খ্রিস্টান পাদ্রি ,পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য কমিটির সদস্য মঞ্জু মুন্সী ও জমিয়তের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি সাফাহাত, ডেইলি সাহারা, জমিয়তে উলামা হিন্দ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


