আদালতের রায় হলেই জামায়াত নিষিদ্ধ হবে : প্রধানমন্ত্রী

আদালতের রায় হলেই জামায়াত নিষিদ্ধ হবে : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : আদালতের রায় হলেই জামায়াত নিষিদ্ধ হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জামায়াত নিষিদ্ধের মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। আমি আশা করি, কোর্টের রায় খুব শীঘ্রই যদি হয়ে যায়, তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে জামায়াত।

তারেক রহমানসহ দণ্ডিত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অপরাধী, মানুষ খুন থেকে শুরু করে যারা মানিলন্ডারিং করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, দুর্নীতি এ সমস্ত মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, পলাতক আসামি- তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি- আমরা তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে পারবো।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান- জামায়াতকে নিষিদ্ধ এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। এখন তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার একটা মামলা কোর্টে রয়ে গেছে। এই মামলা রায় যতক্ষন না হবে সেখানে বোধ হয় আমরা কোন কিছু করতে পারি না। আমি আশা করি, কোর্টের রায় খুব শীঘ্রই যদি হয়ে যায় তাহলে জামায়াত দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

নির্বাচনে জামায়াতকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা ন্যাক্কারজনক- তারা নিবন্ধিত না, সেই অবস্থাতেও তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করে জামায়াত ইসলামী নামে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে। জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তারা জামায়াতকে ভোট দেয়নি, প্রত্যাখ্যান করেছে। জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল। এদেশে গণহত্যা থেকে শুরু করে নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের তারা অপরাধ করেছে। স্বাধীনতার পর তাদের অপরাধের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তাদের বিচার বন্ধ করে দেয়, তাদের ভোটের অধিকার দেয়, রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। যেটা আমাদের সংবিধানে ছিল না। সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *