আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্স এক যুগান্তকরী পদক্ষেপ
মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: রাজধানী জামিয়া ইকরাতে চলছে আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্স। বিগত ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার পর্যন্ত। ছিহা সিত্তার প্রসিদ্ধ কিতাব জামে তিরমিজি পড়া হচ্ছে উক্ত কনফারেন্সে। আমি নিজে শরীক হয়ে ছিলাম একটি দিন। বড় ভাল লাগল। হৃদয় জুড়িয়ে গেল।
আসল কথা কি, তিরমিজি শরীফ পড়ে ছিলাম সেই ছাত্র জীবনে। প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড পুরোটাই পড়ে ছিলাম। ঢাকাতে একবার পড়ার পর আবার দেওবন্দে গিয়ে পড়লাম।
দেওবন্দ থেকে আসার পর আর কোন সময় তিরমিজি শরীফ মুতালায়া করা হয়নি। হাদীসের অন্য কিতাব পড়াই। কিন্তু তিরমিজি শরীফের যেহেতু ক্লাস আমার নেই, এ কারণে এ কিতাব তেমন মুতালায়া করা হয় না।
আর কখনো কোন প্রয়োজনে তিরমিজি কিতাব নিয়ে বসলেও পুরো কিতাব তো আর পড়া হয় না। হয়ত বিশেষ কোন জায়গা মুতালায়া করি। বা জরুরী কোন হাদীস বের করে পড়ি।
এরকম অভ্যাস শুধু আমার একার নয়। হাজারো আলেম তালেবুল ইলমের স্বভাব। বেশীর থেকে বেশী কেউ হয়ত তিরমিজির গুরুত্ব পূর্ণ হাদিস পড়ে থাকেন। বাকি পুরো কিতাবই আমাদের মুতালায়ার বাইরে রয়ে যায়। কেউ আর সেটা মুতালায়া করেন না।
আমি খুবই পুলকিত। আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের জামিয়া ইকরার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্স, এক যুগপোযোগী, সময়পোযোগী। এই প্রোগ্রাম খুবই প্রয়োজন মনে করছি।
আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্সে পুরো তিরমিজি শরীফ পড়া হচ্ছে। কোন একটা হাদীস বাদ যাচ্ছেনা। সেই কবে পড়েছিলাম, আবার কালকে পড়লাম। পুরো কিতাব পড়ার মাধ্যমে দরসে শরীক থাকা প্রতিটি আলেম এবং তালেবুল ইলমের হৃদয়ে সেই সব অজানা হাদীস গুলো বারবার উঁকি দিয়ে গেল। অনেক হাদীস মুখস্থ জানি, কিন্তু রেফারেন্স তালাশ করে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্সে বসে জেগে উঠল বারবার সেই সব হাদীস।
আমার যা মনে হল, একজন আলেম বা তালেবুল ইলম যিনি উপস্হিত হবেন এই কনফারেন্সে, তিনি অনেক উপকৃত হবেন। মনের মধ্যে জেগে উঠবে অজানা হাদীস গুলি। যে সব হাদীসের রেফারেন্স খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, সে গুলি অতি সহজেই নখদর্পনে চলে আসবে।
এজন্য এই হাদীস কনফারেন্স যুগান্তকরি এক পদক্ষেপ। জামিয়া ইকরা তথা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের এটা প্রসংসনীয় উদ্যোগ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। ইতিপুর্বে কখনো এরকম উদ্যোগ আর কেহ নেননি। আসলে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য জামিয়া ইকরা এবং তার কর্তৃপক্ষ।
এরকম প্রোগ্রাম একবার নয়। বারবার হওয়া উচিত। আর শুধু এক তিরমিজি কিতাব নয়। প্রত্যেক কিতাব পড়ার কর্মসুচি হাতে নেওয়া প্রয়োজন। সিহাহ সিত্তার আরো যত কিতাব রয়েছে, প্রতিটি কিতাব বারবার এভাবে পড়ার প্রোগ্রাম করা হোক এটা কামনা করি।
কেউ হিংসা করবেন না। কোন দুশমুনি নয়। খামাখা কেউ ভুল বুঝবেন না। একটু সেখানে গিয়ে দেখুন! আল্লামা মাসউদ সাহেব কি কর্মসুচি হাতে নিয়েছেন।
অনেকে না বুঝে সমালোচনা করে থাকেন। দুর থেকে নানান কথা বলে থাকেন। অনুরোধ! মেহেরবানী করে আল্লামা মাসউদ সাহেবের কাছে বসুন। আপনার সকল মাসয়ালা সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে জামিয়া ইকরা এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের নেক হায়াত কামনা করি। আল্লাহ তাঁকে সুদীর্ঘ হায়াত দান করুন। উম্মাহ এর কল্যাণে আরো বেশী বেশী কাজ করার তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


