আন্দাজ করে কাউকে বেশ্যা, দেহব্যবসায়ী বলা যায়?
সগীর আহমদ চৌধুরী :: এক বোনের ছবি দেখিয়ে হুজুররা বলে বেড়াচ্ছে, মেয়েটি বেশ্যা, দেহব্যবসায়ী ও পতিতা ইত্যাদি! আমার সোজা-সাপ্টা প্রশ্ন হচ্ছে, মনে করুন আপনি দারুল ইফতার একজন দায়িত্বশীল। আপনার দারুল ইফতায় হিজাব-নিকাব ও বোরকা আবৃতা হয়ে সংগীতচর্চাকারী মেয়েটির ব্যাপারে কেউ ফতওয়া জানতে চাইল, তার জবাবে যে পারচাটি আপনি তাকে দেবেন তাতে কি উল্লিখিত (তকমা, কুমন্তব্য ও অশ্লীল) শব্দাবলি লিখতে পারবেন? পারবেন না। কারণ এটা আনএকাডেমিক, ফতওয়া প্রদানের নিয়ম বর্হিভূত এবং একজন মুফতির শানের পরিপন্থী। তাহলে ফেসবুকে ধর্মপ্রচারের নামে গায়রে আলেমানা, গায়রে দায়িয়ানা ও ওলামা মেজাযের শানের বরখেলাফ এসব কাজ কেন করে বেড়ান? এসব কি একজন আলেমে দীনের জন্য শোভা দেয়? মানায়? সুন্দর দেখায়?
মেয়েটি হিজাব, নিকাব ও বোরকা পরিহিতা। তা সত্ত্বেও আপনি তার ব্যাপারে নানা তকমা দিয়ে দিলেন! তাহলে যারা হাসপিটালে নার্সিংয়ের কাজ করেন, যেসব মা-বোন-মেয়েরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-উকিল কিংবা কর্মজীবী বা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তাঁদের ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? আপনারা কি দুনিয়ার নারী-সমাজকে এই এক দৃষ্টিতেই দেখেন? নারী বলতে কি তার একটি “বিশেষ অঙ্গ” এবং তা নিয়ে খেল-তামাশা ও কিছু কর্মকাণ্ডের নাম স্রেফ? এই কাজটা ছাড়া তার কি কোনো প্রতিভা নেই? কোনো যোগ্যতা নেই, তার অন্য কোনো সত্তা নেই? নারী কি একজন পূর্ণাঙ্গ ইনসান নন? এসব লোকেরা যখন রাস্তা-ঘাটে বের হয় তখন নারী দেখতেই এদের দৃষ্টিশক্তির প্রখরতা হিজাব-নিকাব ও বোরকার পর্দা ছিন্ন করে নারী শরীরের কোথা থেকে কোন দূর দিগন্তে পৌঁছে যায়, একজন নারীকে নিয়ে এরা কি কি কল্পনা করে, কেমন কেমন ভাবে একমাত্র আল্লাহই মালুম।
হ্যাঁ, আমি ব্যক্তিগতভাবে সংগীতের তেমন বড় ভক্ত নই। মরহুম আইনুদ্দীন আল-আজাদের একমাত্র ভক্ত ছিলাম। তাও সুর-টুরের নয়, কথাগুলোর। তাঁর ইন্তিকালের পর কলরবকে পছন্দ করি। সৃজনশীল কাজ করে তারা এবং গান-মিউজিকের পরিবর্তে একটি ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছে। আজকাল বাসে, মানুষের মোবাইলে ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সুর শুনতে পাওয়া যায়। তাতে অনেক অনেক খুশি লাগে, আনন্দ লাগে।
উল্লিখিত বোনের কোনো সুর-সংগীত আমি আগ্রহ নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে এবং শুরু-শেষ সম্পূর্ণ শুনিনি। ব্যক্তিগতভাবে এ বয়সের মেয়েদের সংগীতচর্চা আমি পছন্দ করি না। এটা আমার পরহেয হতে পারে। কিন্তু আমি যদি আমার কথিত পরহেযগারির ফুটানি মারতে, আত্মবুযুর্গির প্রদর্শনী করতে এবং নিজেকে মহাত্মা প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের ইজ্জত নিয়ে প্রশ্ন তুলি তাহলে সেটা কি আর পরহেজগারি থাকে? অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপন কি কথিত তাকওয়াবাদের পরিপন্থী নয়? এ কেমন বুযুর্গি?
লেখক : রাজনীতিক ও সংস্কৃতিকর্মী
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


