আমার দেখা শায়েখ সৈয়দ ফজলুল করীম রহ,
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : একদম সাধাসিধে একজন মানুষ ছিলেন শায়েখে চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করীম রহ,। আমি এরকম সহজ- সরল মানুষ আর দেখি নাই। তিনি ছিলেন জবরদস্ত একজন পীর। দেশ/ বিদেশে ছিল লক্ষ লক্ষ ভক্ত। কিন্তু তাঁর চাল- চলন ছিল এত সাদামাঠা চিন্তা করা যায় না। লাখো মুরিদের পীর তিনি। পোশাকে তেমন আড়ম্বরী দেখিনি কোনদিন। লুঙ্গি পরে চলাফেরা করেছেন সব সময়। যত বড় প্রোগ্রাম হোক, যতই লোকের সমাগম হোক, তাঁর পোষাক- পরিচ্ছেদ একেবারে সাধারণ ছিল।
আমরা সাধারণত কোন বড় প্রোগ্রামে গেলে নিজের পোষাকের দিকে বেশী নজর দেই। দামী কাপড়, পায়জামা, চশমা,ঘড়ি, সব কিছু উন্নত মানের পরার চেষ্টা করি। শায়েখে চরমোনাই রহ, এর অবস্হা সব সময় একই হালাত ছিল, তিনি লুঙ্গি আর সাধারণ একটা নেসফে ছাক পান্জাবী পরেই সব পরিবেশে চলে যেতেন।
নিজেকে কখনো দামী পোষাকে মুড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন নি। বরং সাধারণ মানের পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছেন।
শায়েখে চরমোনাই রহ, এর বয়ান বক্তৃতা ছিল সাধারণ। আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেছেন। ওয়াজে কোন রং ঢং ছিল না। বর্তমান জামানার বক্তাদের মত স্রোতাদের আকর্ষন করার জন্য তাঁর বয়ান ছিল না। তিনি অত্যান্ত সাধামাঠা কথা বলতেন, আর তাতেই স্রোতারা কেঁদে বুক ভাসাতেন। তাঁর সরল কথা গুলো স্রোতাদের হৃদয়ে আঘাত করত সব সময়।
তাঁর বহু বয়ান শুনেছি, বহু ওয়াজ মাহফিলের বয়ান, বহু রাজনৈতিক প্রোগ্রামের বক্তৃতা, কিন্তু সবই ছিল সাধারণ আঞ্চলিক ভাষার হৃদয় ছোঁয়া কথা। যে কথা গুলো সাধারণ স্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। কত যে পাবলিককে দেখেছি, সেই সরল মানুষটির কথায় পরিবর্তন হয়ে যেতে।
হক- হক্কানিয়্যাতের উপরে অটল- অবিচল দেখেছি তাঁকে সব সময়। কখনো বাতিলের সামনে নত হতে দেখিনি। কত ঝড়- ঝাপটা এসেছে, তবুও তিনি তাঁর নীতিতে অটল ছিলেন। কখনো মত পরিবর্তন করে হকের উপর থেকে সরে যাননি।
শায়েখে চরমোনাই এর সাথে কেউ থাকুক চাই না থাকুক, তাঁকে কেউ সাপোর্ট করুক বা না করুক, তিনি কঠিন ভাবে সব কিছুকে মোকাবেলা করেছেন।
বলতে গেলে তিনি একাই চলেছেন, তারপরেও বিন্দু মাত্র হক থেকে সরেন নি। কত সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও তিনি ছিলেন হকের উপর অনড়।
শায়েখে চরমোনাই এর কোন অহমিকা আমি দেখিনি কখনো। মুরিদগণ যেভাবে চালাতেন,সেভাবে চলতেন।
সফরে খাওয়া- থাকা ছিল একদম সাধারণ মানের। কাউকে কোন প্রেসার দিতেন না। যেখানে যেভাবে আয়োজন হত, সেটার উপর খুশি থাকতেন।
একেবারে অজপাঁড়া গাঁর মধ্যে তাঁকে মাহফিল করতে দেখেছি। কোন বিদ্যুৎ নেই। বাথরুম চটের। টিনের চালার মসজিদ।সেখানেই তাঁর রাত যাপন হয়েছে। তবুও তাঁর কোন অভিযোগ ছিল না। আসলে শায়েখে চরমোনাই এর মত মুখলিস পীর আর মিলবে বলে মনে হয়না। আল্লাহর কাছে দুআ মুনাজাত করি, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


