- কাউসার মাহমুদ
আচমকা দুর্ঘটনা মানুষকে হতবুদ্ধ করে দেয়। বিপর্যস্ত করে তোলে। তার ওপর ভিনদেশে পরিবেশ পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, সে আঘাত কাটিয়ে উঠা বড় দুস্করই বটে। গত নয়’ই জানুয়ারি এমনই এক আঘাতে আক্রান্ত হলাম। কী ভীষণ সময়ের মধ্য দিয়ে যে গেলাম, তা বর্ণনার যথার্থ ভাষা নেই। সেই থেকে একটি মাস আমার ভাষা লোপ পেয়ছিল।চিন্তা অক্ষম হয়েছিল। লেখার শক্তি হারিয়েছিলাম। মন ও মগজ দুই-ই হতাশা, ব্যর্থতা ও দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিল। আর্থিকভাবে এমনই বিপর্যস্ত ছিলাম,যার বিরূপ প্রভাব মানসিকভাবেও বিধ্বস্ত করেছিল আমায়। এভাবে দীর্ঘ একটি মাস অতিক্রান্ত হলে পরে যখন কিছুটা প্রকৃতিস্থ হয়েছি, তখন এই রচনাটি লিখতে বসেছি।
স্মৃতির ভাণ্ডারে বিদেশের বিচিত্র জীবনের মাঝে এই দুঃসময়টিকে এঁকে রাখতে চেয়েছি। যেন কোনোদিনই ভয়াল সময়টাকে ভোলা না যায়। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি চরিত্র, স্থান ও মানুষগুলো ভালোমন্দ যাই হোক—আমার দুঃখের মাঝে বেঁচে থাকে।
মূল ঘটনাটি সেদিন বিকেলের। শ্রমিকদের ধোয়া শেষে যখন ড্রাইভিং করে গাড়িটাকে দোকান থেকে বের করছিলাম। প্রাথমিক ভুলটা আসলে এখানে আমার। কেননা, আমি জানতাম গাড়িটা সৌদির। লোকটাও সুবিধের নয়। গাড়িতে বসার সময় মনটাও সায় দেয়নি। যেন অশনি সংকেত। তবু কেন ওর গাড়ি নিয়ে বের হলাম? কেন ড্রাইভিং শেখার অতি উত্তেজনায় সোজা মহাসড়কে নেমে গেলাম? যাহোক, গাড়ি নিয়ে একটিমাত্র বাঁক অতিক্রম করেছি। অমনি কোথা থেকে কী যে হল? কিছুই না বুুঝে কীভাবে যেন গাড়িটাকে রোডব্রেকারের ওপর উঠিয়ে দিলাম। তারপর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আবার ওটাকে তড়িৎ ব্যাক গিয়ারে দিয়ে পেছনে আনলাম। এতে করে যে ক্ষতিটা হয়েছে, দৃশ্য ও অদৃশ্য কোনোভাবেই তা খুব বেশি নয়। চাকাটা পাংচার হয়েছে কেবল। সেইসাথে সামনের কিছু অংশে ভেঙে গেছে। আল্লাহর শোকর! শারীরিকভাবে আমি কোনো আক্রান্ত হয়নি। না গাড়ির বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু হায়! কে জানত নিষ্ঠুর সৌদিটি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করবে? সামান্য সুযোগ পেয়ে কুকুরের মত ওর জিভটা লোভে অমন লকলক করবে। কারো কথাই শুনবে না সে। না স্থানীয় দোকানদারদের কথা। না বাবার বয়সী বৃদ্ধ ইয়ামিনের কথা। না স্বয়ং পুলিশদের কথা। সে বরং শুয়োরের মত ঘোঁৎঘোঁৎ করে মোটা অঙ্কের রিয়াল বাগিয়ে নেওয়ারই একটা সুযোগ পেয়েছিল তখন। তাই গাড়িটাকে কোনোরূপ সারানোর সুযোগ না দিয়ে, হিংস্র পশুর মত লাফালাফি করছিল। বারবার ফোনে পুলিশকে ডাকছিল। এরপর পুলিশের আগমন, আমার থানায় যাওয়া, দরবার এবং সেখানখার ইতিবৃত্তই তুলে ধরছি।
পুলিশের আগমন—
ততক্ষণে সন্ধ্যা আসন্ন। গ্যারেজের সামনে নির্বাক তাকিয়ে আছি আমি। সঙ্গে আমার ছোট ভাই শাওন। পাশেই দাঁড়িয়ে আমাদের বড় খালাতো ভাই বিলাল। উনি তার বন্ধু ও পার্শ্ববর্তী দোকানদার বৃদ্ধ ইয়ামেনি আবু সালেহকে নিয়ে লোভীটাকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। হারামখোরটা এমনই গো ধরে আছে যে, নানা উদ্ভট কথার বিস্তার ঘটাচ্ছে। বলছে, কেন আমি গাড়িটা ওই পথে নিয়ে গেলাম? নিশ্চয় নেশাদ্রব্য গ্রামের ভেতর পাচার করতে গিয়েছি! নিশ্চয় গাড়ি চুরি করে বেচে দিতে যাচ্ছিলম! কিন্তু এই অথর্ব বিবেকবুদ্বিহীন গাধাটাকে কে বোঝাবে যে, আজতক ইতিহাসে কোনো অনারবীর এসব করার সাহস হয়েছে কি? এ কি সম্ভব আমাদের পক্ষে? তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের হল এমন অবান্তর কথা শুনে উপস্থিত জনতার মাঝে একটি সৌদিও এর প্রতিবাদ করলো না! একজন মানুষও তাকে বোঝালো না। বরং সার্কাসের দর্শকের মত সকলেই একটা গা-ছাড়া মনোভাবে সংঘটিত দৃশ্য উপভোগ করে চলে যাচ্ছিল।
স্মৃতির ভাণ্ডারে বিদেশের বিচিত্র জীবনের মাঝে এই দুঃসময়টিকে এঁকে রাখতে চেয়েছি। যেন কোনোদিনই ভয়াল সময়টাকে ভোলা না যায়। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি চরিত্র, স্থান ও মানুষগুলো ভালোমন্দ যাই হোক—আমার দুঃখের মাঝে বেঁচে থাকে।
ইতোমধ্যে পুলিশের দুটি গাড়ির আগমন ঘটে। প্রতক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে আমাদের দোকান থেকে মাত্র বিশ গজ সামনেই দুর্ঘটনার স্থানে যায়। আমার ‘আকামা’ (রেসিডেন্ট কার্ড), ওর (গাড়ির মালিক) জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নিজেদের কাছে রাখে। তারপর গাড়িটির অমন সামান্য সমস্যা দেখে তড়িৎ তাঁরা নিজেদের ভেতর আলোচনা শেষ করে। একজন এসে মালিক হারামিটাকে প্রস্তাব করে, ‘ঠিকাছে এই গ্যারেজ থেকেই তোমার গাড়িটা সম্পূর্ণ সারিয়ে দেয়া হবে।’
কিন্তু না! পুলিশের এই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণরূপেই প্রত্যাখ্যান করে ও। ভাবভঙ্গি এমন প্রকাশ করে যে, পুলিশগুলো কেন একজন অনারবীকে এভাবেই ছেড়ে দিচ্ছে? অথচ এই বোধটুকু জাগেনি যে, পুলিশ অনারবির পক্ষ নিচ্ছে না। বরং সামান্য ব্যাপারটিকে আইনানুযায়ীই মেটানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে তখনই বুঝে গেছি, এই বজ্জাতটা অত সহজেই আমাকে ছাড়ছে না। কারণ, আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এই সুযোগে আমাকে জেল হাজত করার ভয় দেখিয়ে যতটুকু পারে পয়সা খাবে। ফলে আমার মত পুলিশগুলোও ওকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘তা কী চাই তোমার?’
বলে, ‘ওকে থানায় নিয়ে যাও। ওখানে গিয়ে কথা বলব আমি। তোমাদের দায়িত্ব আসামি ও আঘাতপ্রাপ্ত গাড়িকে থানায় নিয়ে যাওয়া।’
অগত্যা পুলিশ বেচারারা একটা ‘ছাতহা’ (আক্রান্ত যান বহনে প্রমাণ সাইজের একপ্রকার আরবীয় ট্রাক) এনে ওর গাড়িটা তুলে দেয়। অন্যদিকে জীবনে এই প্রথমবার আমি পুলিশের গাড়িতে উঠলাম। পেছনে খোপ করে দুই সিটে দুজন করে চারজনের বসার জায়গা। সেখানে আমি আর বিলাল ভাই। আর সামনে দুজন পুলিশ। কোনোপ্রকার বাক্যবিনিময় ছাড়া আমরা উঠে বসতেই, গাড়ি চলতে শুরু করে। জানালা ভেদ করে কুয়াশাজড়ানো শীতল হাওয়া আমার শরীরে লাগে। দুশ্চিন্তাগ্রস্থ পথিকের মত সেসবের প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন মনোভঙ্গিতে আমার চিন্তাজুড়ে তখন থানা, হাজত, জরিমানা, দেশ-বিদেশ ইত্যাদি বিষয়গুলোই ঘুরতে থাকে। এমন এক বেদনাদায়ক অনুভূতি তখন আমার, যাতে ভবিষ্যৎ, পরিবার, মানুষের দেনা—সবকিছু অকাতরে একীভূত হচ্ছিল। উত্তাল তরঙ্গের মত হৃদয়টা দুদিকে টলছিল। চোখে অশ্রু ছিলোনা। কিন্তু হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল ঠিকই। কেননা, একে তো পুলিশি ঝামেলায় অনভিজ্ঞ। তদুপরি কোথা থেকে কী হবে এসবের অজানা আশঙ্কাই আমাকে সন্ত্রস্ত করে তুলছিল বেশি।
থানায়—
বহুদিন এ থানার সামনে দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আজ গভীর মনোযোগে দৃকপাত করলে মনে হল, এদেশের থানাহাজতের স্থাপত্যশৈলী আমাদের থেকে বেশ ভিন্ন। বাহিরে থেকে দেখলে কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তির ভবনই মনে হবে। দুপাশে বিস্তৃত চারদেয়ালে ঘেরা ভবনের ঠিক মাঝখান দিয়ে মোটামুটি প্রশস্ত এক পথ। সেখান দিয়ে প্রবেশের পরই ভেতরের চৌহদ্দি ও সুপরিসর জায়গাটির আন্দাজ করা যায়। বোঝাই যায় পাহাড় কেটে বিশাল আয়তনে এ থানা নির্মাণ করা হয়েছে। সেইসাথে কেবল সৈন্য দ্বারাই নয় বরং প্রস্তরীভূত পাহাড়ের কল্যাণে এর নিরাপত্তাও অকল্পনীয় সুদৃঢ়। ফলে আমাদের দেশের থানার মত এখানে-ওখানে সেপাইদের আধিক্য দেখলাম না। বরং পুরো জায়গাজুড়ে বিদুৎতের উজ্জ্বল বাতিগুলো এমনই শান্ত এক নৈঃশব্দ্য বিছিয়ে রেখেছে, মনে হল জনমানবশূন্য কোনো অচীন লোকালয়ে এসে ঢুকেছি।
ভাবছিলাম, মানুষ মিথ্যুক হতে পারে, তাই বলে এতোটা? এমনভাবে কিড়ে-কসম খেতে পারে?
যাহোক, পুলিশের লোক দুটি আমাদের বড় কোমলভাবে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁদের ঘরোয়া মসজিদের বারান্দায় এসে বসায়। মসজিদ দেখে বুকটা ঈষৎ হালকা হয়। মনে মনে ক্রমাগত ইস্তেগফার ও দোয়ায়ে ইউনুস পড়ি। বুঝতে পারি বিষয়টি অত গুরুতর করছে না তাঁরা। অল্পতেই ঝামেলাটা মেটাতে চাইছে। হতে পারে সে কারণেই তাঁরা আমাদোর হাজতের দরজার পরিবর্তে মসজিদের দরজায় এনে দাঁড় করিয়েছে। যেখান থেকে সোজা তাঁদের বিশ্রামাগার। এই ঘরটিকে বিশ্রামাগার না বলে বসার ঘর বলাই বোধকরি শ্রেয়। কেননা কিছুক্ষণ পর যখন আমাদের ভেতরে ডাকা হয়, তখন দেখি ফায়ারপ্লেসের পাশে আধশোয়া হয়ে চারজন ডিউটিরত পুলিশ খোশগল্প করছে। এদের মাঝে দুজন আমাদের পূর্বপরিচত। ঢুকতেই সালাম বিনিময়ে করে এককোণে বসতে দেয়। তারপর বাঙালি এক সেবককে ডেকে চায়ের জন্য গরম জলের নির্দেশ করে। যুবকটি তা নিয়ে আসলে, সহজাত আন্তরিক ভঙ্গিতে একটি পুলিশ নিজ হাতে চা বানিয়ে আমাদের পান করতে দেয়। সত্যি বলতে কী, বাহিরে এতক্ষণ যে দুশ্চিন্তায় বড় ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলাম, থানার ভেতর তাঁদের এই আন্তরিকতায় ক্রমশই তা অনেকটা কেটে যাচ্ছিল। সেই অব্যক্ত অদেখা অবোধ্য ভয়টা ধীরেধীরে প্রশমিত হচ্ছিল। সৌদি পুলিশের অমন মানবিক আচরণ দেখে অজানা শঙ্কাটি কেটে ভরসা ও আস্থা আসছিল। বিশ্বাস হচ্ছিল, ওরা আমাকে জেলে আবদ্ধ করবে না। এখানে বসেই এর একটা বিহিত করবে।
দরবার—
ওখানে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের দোকান মালিক পৌঁছে। এ অঞ্চলের মান্যবর শেখদের একজন তিনি। নাম তাঁর শেখ সা’দ সায়ীদ আল-রাসী। তাঁর আগমনের কয়েক মিনিট পরই বদমাশ গাড়িওয়ালাটি আসে। ওর নাম আহমাদ আলী আল-বাইয়্যান। মধ্যম গড়নের এই লোকটার মুখে যেন মায়ার লেশমাত্র নেই। ইয়া বড় আর ঝারের মত ঘন গোফের তলে সমস্ত মুখটিই পরিস্কার করে ছাটা। আঁড়চোখে কয়েকবার তাকিয়ে দেখি, চোখ দুটি ওর ধূর্ত শেয়ালের মত জ্বলজ্বল করছে। একে তো আমার লাইসেন্স নেই, তার ওপর শেখ এসেছে হেতু ওর জিহ্বাটি যেন লালসায় দীর্ঘ হয়ে বেরিয়ে পড়ছে। ফলে যখনই পুলিশ, শেখ এবং ওর কথোপকথন শুরু হল, অমনি ওর অকৃত্রিম লোলুপতার প্রকাশ ঘটলো। ইনিয়েবিনিয়ে গাড়িটার অন্তত দশটি সমস্যার কথা বলল। তদুপরি প্রতিটি সমস্যার সাথে এতবার ‘ওয়াল্লাহি ওয়াল্লাহি’ বলে কসম কাটছিল, যা শুনে অজান্তেই ক্ষণে ক্ষণে বুক কেঁপে উঠছিল আমার।
ভাবছিলাম, মানুষ মিথ্যুক হতে পারে, তাই বলে এতোটা? এমনভাবে কিড়ে-কসম খেতে পারে?
আল্লাহ না করুন! ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী মিথ্যে এ শপথগুলোর ওপর যদি কাফফারা আবশ্যক হয়, তাহলে নিশ্চিত ওর ভীষণ অমঙ্গল আছে। যাহোক, তা আরবীয় রীতি অনুযায়ী প্রাথমিক আলাপে শেখ ও বাইয়্যান একে অন্যের প্রতি স্ততি বর্ষণ করে। তারপর পুলিশ যখন ওর দাবি জানতে চায়, তখন উপস্থিত সকলেরই হতবুদ্ধ হবার জোগাড়।
বলে, ‘আমার পনেরো হাজার রিয়াল চাই।’
এই শুনে পুলিশ অফিসারই প্রথম বলে বসে, ‘কীসের পনেরো হাজার? কি বলছো তুমি?’
বলে, ‘হ্যাঁ।’
শেখ সা’দ তখন হতভম্ব মুখে শুকনো হাসির রেখা টেনে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। তারপর প্রতিবাদ করে বলে, ‘তোমার গাড়ির দামই তো পনেরো হাজার হবে না।’
এতে মজলিস কিছুটা উত্তপ্ত হয়। এতক্ষণে পুলিশও ওর মতলব স্পষ্ট বুঝে যায়। ফলে প্রথমে দু’হাজার, তারপর চার এবং সর্বশেষ পাঁচ হাজার বললে জল্লাদ ব্যাটা মানে। যে ক্ষতি সাড়াতে অধিক হলে পাঁচ ছ’শ রিয়াল লাগবে, সেজন্য আমার থেকে ও পাঁচ হাজার রিয়াল নেয়। আমাদের দেশীয় মুদ্রায় হিসেব কষলে যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ উনষাট হাজার টাকা। একদিকে যদিও আমার ওপর ওই মুহুর্তে তা পাহাড়সম। অন্যদিকে যেহেতু লাইসেন্স নেই, আইনানুযায়ী এর ওপরও জরিমানা আসতে পারে। তাই সবদিক বিবেচনা করে জেলে প্রেরণ না করে পুলিশগুলো আমার ওপর দয়াপরবশই হয়েছিল বলব। এমনকি এর কয়েকদিন পর সে রাতে ওখানে থাকা এক পুলিশের সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয়, সে-ও এ বলেই প্রবোধ দিয়েছিল যে, ‘ও ব্যাটা আস্ত একটা হারামখোর। তুমি অসহায় অনারবি শ্রমিক। ভয় পেওনা। আহত হয়োনা। প্রার্থনা করো। আল্লাহই তোমার প্রতিদান দেবে।’ তাঁর কথা শুনে যদিও মনটা সাময়িক প্রশান্ত হয়েছে। কিন্তু শুধু আমিই জানি আমার হৃদয়ে ওর প্রতি কী ক্ষোভ, বিদ্বেষ আর বদদোয়া জমে আছে। যখনই আমার প্রতি এ জুলুমের কথা মনে পড়ে, বলি, ‘বাইনি ওয়া বাইনাহু আল্লাহ।’
৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
ক্রমশ..
লেখক, কবি ও কথাসাহিত্যিক


