আল্লাহ্কে যে পাইতে চায়
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : আল্লাহ্ কাদেরকে ভালবাসেন? বলা হয়েছে তিনি সবাইকে ভালবাসেন। তাই কি? তার কিছু চয়ন করা মানুষ আছে, আখলাকের কারণে বেশি পছন্দ করেন। জিব্রিল [আ]-কে ডেকে বলে দেন এই লোকটা আমার পছন্দের। জিব্রিল [আ]ও তাকে ভালবাসেন। তখন সমস্ত ফেরেশ্তাদের তিনি তা জানিয়ে দেন। আল্লাহ্ র পছন্দনীয় লোকটি প্রবেশ করেন এক অপূর্ব প্রাপ্তির দ্বারে। বিরাট সাফল্য।
এখানেই শেষ নয়। আল্লাহ্ তায়া’লা তাকে বিপদ-আপদ, রোগ-শোক, ধন-সম্পদ, ছেলে-মেয়ে, সবকিছু দিয়ে পরীক্ষা করেন। সবচে’ বেশি পরীক্ষা হয়েছিল ইব্রাহিম [আ]। এত পরীক্ষা আর কারও হয় নি। যারা আল্লাহ্ র অপছন্দনীয়, তাদের পরীক্ষা হয় না। যেমন নমরুদের কোন পরীক্ষা হয় নি। আবু জাহেল, আবু লাহাবের পরীক্ষা হয় নি। পৃথিবীতে যাদের পরাক্রমের কথা আমরা সচরাচর ইতিহাস থেকে পেয়েছি, তারা সহজেই পার পেয়ে গেছেন। নবীরা পরীক্ষিত হয়েছেন। ভাল মানুষরা সবসময় কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। এখনও হচ্ছেন। আমি কিছু লোককে চিনি, যারা আমার চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। কিন্তু অবাক কথা, সমাজে কেউ তাদের চেনে না। তারা সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহ্র সবচে’ প্রিয় বান্দা।
তৃতীয় আলামত আল্লাহ্ র তরফ থেকে, তা হল দুনিয়া থেকে তার দৃষ্টি অপসারণ। কোন পদ, পদবী, টাকা পয়সা, তাকে স্পর্শ করবে না। সবসময় দুনিয়ার পুরস্কার থেকে তার মুখ ফিরিয়ে নেবেন। হয়ত কাউকে ধনও দেবেন। কিন্তু সে ধন থেকে সে অনেক দূরে। আল্লাহ্কে যে পাইতে চায়, সে আল্লাহ্ রই ধ্যানে থাকবে, আর কারও নয়। দুনিয়ার যত ঐশ্বর্য তার কাছে মূল্যহীন। দুনিয়ার স্বীকৃতি তাদের লক্ষ্য নয়। তারা কোথাও কোণে পড়ে আছেন, মস্জিদের বারান্দায়, মানবের দৃষ্টির আড়ালে। ছেঁড়া কাপড় পরা। দানপাত্র প্রসারিত। সেখানে কিছুই নেই।
চতুর্থ আলামত যাকে আল্লাহ্ ভালবাসেন তাকে নেক কাজ করার সুযোগ দেন, আল্লাহ্ র বাণী প্রচারে সুযোগ দেন। তাকে উপলব্ধি করার জন্যে জনসমক্ষে এমন সুযোগের দ্বার খুলে দেন, যা অভাবনীয়। সবাই এ সুযোগ পান না। যে সমস্ত আলেম আমাদের মাথার মণি হয়ে আছেন, তারা কত সৌভাগ্যবান। তারা সবসময়ই আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করেছেন। যা বলা হল সবই হাদিস সমর্থিত। বহু হাদিসে আছে এর সমর্থন। আল্লাহ্র প্রিয় হতে চাই।
মু. জা. আ.
২৫শে আষাঢ়, ১৪২৬


