ইবাদত ছাড়া কি সওয়াব পাওয়া যায়?

ইবাদত ছাড়া কি সওয়াব পাওয়া যায়?

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ সওয়াব। ঈমানের পর সওয়াবের মাধ্যমেই পরকালে সম্মান-মর্যাদা ও সুখ-শান্তির নেয়ামত পাবে মুমিন। সওয়াব মানুষকে পৌঁছে দেবে জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে।

মনে রাখা জরুরি যে, কোনো আমলের সওয়াব পাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত থাকতে হবে। নিয়ত ছাড়া কোনো কিছুতে সওয়াব পাওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ مَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوا اللّٰهَ مُخۡلِصِیۡنَ لَهُ الدِّیۡنَ ۙ حُنَفَآءَ وَ یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوا الزَّکٰوۃَ وَ ذٰلِکَ دِیۡنُ الۡقَیِّمَۃِ ؕ

‘তাদের কেবল এই আদেশই করা হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে; খালেস ও একনিষ্ঠভাবে তারই আনুগত্য করবে এবং নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত দেবে। আর এটাই সরল-সঠিক দ্বীন।’ (সুরা বায়্যিনাহ, আয়াত : ০৫)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ০১)

হ্যাঁ, শুধু পরিশুদ্ধ নিয়তের কারণেই সওয়াব পাবে মুমিন। মানুষ কখনো কখনো ভালো নিয়তের কারণে আমল না করেও সওয়াব পেয়ে থাকে। হাদিসে পাকে এ সওয়াবের ঘোষণা এসেছে এভাবে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হাদিসে কুদসি স্বরূপ) তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ ভাল-মন্দ লিখে দিয়েছেন। এরপর সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সৎ কাজের ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা বাস্তবে করতে পারলো না, আল্লাহ তাঁর কাছে এর (ভালো কাজের ইচ্ছা করার) জন্য পূর্ণ সাওয়াব লিখবেন।

আর সে ভাল কাজের ইচ্ছা করলো এবং তা বাস্তবেও করলো তবে আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও বেশি সওযাব লিখে দেন। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করলো, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করলো না, আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ সওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করার পর বাস্তবেও তা করে, তবে তার জন্য আল্লাহ মাত্র একটা গুনাহ লিখেন।’ (বুখারি ৬৪৯১)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ত করে শুয়েছে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমের চাপে ভোর হয়ে গেছে— সে তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব পাবে। তার ঘুমই আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে।’ (নাসাই ৩/২৫৮)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশুদ্ধ নিয়তে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *