ইমাম সাহেব ভালো হলে, এলাকাবাসী হেদায়েতের ঘ্রাণ পাবে

ইমাম সাহেব ভালো হলে, এলাকাবাসী হেদায়েতের ঘ্রাণ পাবে

ইমাম সাহেব ভালো হলে, এলাকাবাসী হেদায়েতের ঘ্রাণ পাবে

মুহাম্মাদ আইয়ুব :: চলতি মাসের ৩ তারিখের ঘটনা। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জেরর দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জনাব শহিদুল ইসলাম। যিনি স্থানীয় এক মাদ্রাসার অফিস সহকারীর পাশাপাশি এক মসজিদের ইমাম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশির নামে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ী তার অনুসারীদের নিয়ে মাদ্রাসা অফিসে এসে ইমাম সাহেবকে মারধর করে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। এ নিয়ে তখন দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়ে যায়, ফেসবুক রাতারাতি গরম হয়ে যায় যে, ইমামের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে! সবাই দুষ্ট চেয়ারম্যানটাকে ছি ছি করতে থাকে এবং ঐ সময়ই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দুই.
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি মাসের ১৭ তারিখে আরো একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে যায় ফেনীতে। শহরে অবস্থিত দারুল ঈমান ইসলামি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মামুনুর রশীদ। তিনি তার মাদ্রাসার সাবেক এক ছাত্রের বাবার কাছে বকেয়া বেতন চাওয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায় ঐ ছাত্রের বাবা। প্রিন্সিপাল সাহেব এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে ঐ অভিভাবক আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসায় এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে। তাদের মারামারির এ দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করলে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়! সমালোচনার তীর ধেয়ে আসতে থাকে জাহাঙ্গীর আলম নামে ঐ সন্ত্রাসীর দিকে। পরে তাকে পুলিশ আটক করে।

তিন.
সবশেষে চলতি মাসের ২৮ জুন ঘটে যায় উল্লেখিত দুই ঘটনার থেকেও মারাত্মক ঘটনা! ভোলার চরফ্যাশনের চরকলমি ইউনিয়নের এক ইমাম সাহেবকে একই ইউনিয়নের এক লোক কথিত পরকীয়ার অভিযোগে তিনদিন অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করে মুহাম্মদ হাফিজ নামের এক গুন্ডা। লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ! ফেসবুক দুনিয়া আপাতত এটা নিয়ে সরগরম। কত জঘন্য আর ন্যাক্কারজনক ব্যাপার ভাবা যায়?! মুসল্লীদের হাতে, অভিভাবকদের হাতে ইমাম ও উলামায়ে কেরামগণ নির্যাতিত হচ্ছেন! আহত হচ্ছেন!! শেষমেষ নিহতও হচ্ছেন!!!

এই বাংলার জমিনে এমন ঘটনা ঘটতে দেখার জন্য আমরা আদৌ প্রস্তুত ছিলাম! ঘটনা ঘটা তো দূরের কথা আমরা তো কল্পনাও করতাম না অথচ এগুলোই আজ চোখের সামনে দেখছি, ইয়া মা’বুদ! এ সকল ঘটনার ভিডিও বা বিবরণ যখন সোশ্যাল মিডিয়া বা পত্র পত্রিকার কল্যাণে আমি দেখি তখনই চোখের সামনে ভেসে উঠে দরদী দিলের এক মহান মানুষের মুখাবয়ব। যিনি এসকল ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন আজ থেকে দু’বছর আগে। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা দূরদর্শী আলেমে দ্বীন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বাঃ.। মুনাফিকুনদের দীর্ঘদিনের মেহনতের পর যখন তাবলীগ জামাতের মাঝে চিড় ধরল তখন হুজুর অত্যন্ত শংকা আর ব্যাথা নিয়ে বলছিলেন, আওয়ামকে আলেম থেকে পৃথক করা যাবে না! আল্লাহ না করুন যদি এমনটা হয় তাহলে আওয়াম হবে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত আর উলামায়ে কেরাম হবেন নির্যাতিত।

এই তো সেদিন হুজুর এই কথাগুলো বলেছিলেন কিন্তু বছর দুই ঘুরতে না ঘুরতেই হুজুরের কথার বাস্তবতা আমাদের চোখের সামনে বিরাজমান। বিষ্ময়কর হলেও সত্য যে, আওয়াম যেন উলামায়ে কেরাম থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে আল্লামা মাসঊদ সাহেব সারা বাংলায় ইসলাহী সফর করেছেন, গ্রামবাংলায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে বুঝিয়েছেন উলামায়ে কেরাম থেকে কোন অবস্থা থেকে পৃথক হওয়া যাবে না। তাঁদের থেকে পৃথক হলেই অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে!

আজ হুজুরের শংকাই বাস্তবতায় রূপ নিতে শুরু করেছে, ইন্না-লিল্লাহ! কি মনে হয় পাঠক। এখনই যদি আমরা সতর্ক না হই তাহলে এই মন্দ পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে! আদৌ না! তখন সব কিছু বেসামাল হয়ে পড়বে! এখানে আমি আত্মসমালোচনা হিসেবে একটা বলব যে, যারা ইমাম তাঁরা তাঁর এলাকা বা মহল্লার রাহবর।

ইমাম সাহেব যদি ঠিক থাকেন তাহলে মসজিদভুক্ত এলাকা তাঁর থেকে হেদায়েতের ঘ্রাণ পেতে থাকবে আর যদি আল্লাহ না করুন তিনি অহংকারের পোশাকে আবৃত থাকেন, মুসল্লীদেরকে থোড়াই পরোয়া করেন, নিজের মন মতো চলেন অথবা এলাকার মা বোনদের সাথে বিয়াই বিয়াইন সম্পর্ক রাখেন, পর্দা পুশিদার তোয়াক্কা না করেন তাহলে ঘটে যাবে আচমকা বিপদ যে বিপদ আমাকে হাইলাইট করবে, সারা দুনিয়ায় তখন বদনাম শুধু আমার নয় বরং আমার স্বজাতির, আমার পুত পবিত্র ধর্মের! আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *