পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলাম কখনোই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে প্রশ্রয় দেয় না মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও উদারতার ধর্ম। মানুষকে খুন করে, বোমাতঙ্ক সৃষ্টি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মনগড়া ব্যাখ্যার সঙ্গে ইসলামের দূরতম সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, জিহাদ ও জঙ্গীবাদ এক জিনিস নয়। যারা জিহাদ ও জঙ্গীবাদকে মিলিয়ে ফেলে, তারা নিরেট অজ্ঞ ও মূর্খ। যারা সন্ত্রাসকে জিহাদ বলে বা জিহাদকে সন্ত্রাস বলে তারা উভয়ই ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর দুশমন। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে যাতে জঙ্গিবাদ ছড়াতে না পারে এজন্য আমাদের জানতে হবে, বুঝতে হবে কোনটি জিহাদ, আর কোনটি জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ। ডাক্তার আর ডাকাতের ছুরির ব্যবহার যেমন এক নয়, তেমনি জিহাদ আর জঙ্গীবাদ এক নয়।
সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ একটি রোগ, আমাদের দেশ ও সমাজ থেকে এই রোগ নির্মূল করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হয়ে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
রোববার (২৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এন্টি টেররিজম ইউনিট প্রকাশিত এবং মুফতি সদরুদ্দিন মাকনুন ও মাওলানা মিরাজ রহমান রচিত ‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ এই গ্রন্থটিকে আরবি ও ইংলিশে ভাষান্তর করার প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, এই গ্রন্থটিকে শুধু বাংলা নয়, আরবি ও ইংলিশসহ আরো কিছু ভাষায় রূপান্তরিত করা হোক। তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ও বিশ্বাসবাসী জানতে-বুঝতে পারবে ইসলাম শান্তি, প্রেম ও ভালোবাসার ধর্ম। এখানে উগ্রবাদ-সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই।
অনুষ্ঠানে এটিইউ প্রধান কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জঙ্গিবাদের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও পরে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) গঠন করা হয়। বাংলাদেশ যে ধর্মান্ধ রাষ্ট্র নয়, তা সারা পৃথিবীতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। যে কারণে বাংলাদেশ সিরিয়া, ইরাক আফগানিস্তানে পরিণত হয়নি। যদিও উসকানি নিয়ে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখলাম অগ্নি সন্ত্রাস, গাড়িতে, বাসা বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা। সেখান থেকে যখনই আমরা কন্ট্রোল করলাম তখনই শুরু হলো জঙ্গিবাদের নতুন অধ্যায়। আমরা দেখলাম ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজারকে হত্যা করা হলো। রংপুরে জাপানি নাগরিককে হত্যা, পঞ্চগড়ে ইস্কন মন্দিরের পুরোহিত, বান্দরবানের বৌদ্ধ মন্দিরে পুরোহিতকে হত্যা করা হলো। শিয়া মসজিদে হামলা হলো। মসজিদে বোমা ফাটানোর চক্রান্ত হলো।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ঘটনার পেছনে ছিল বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা। আইএস নাম দিয়ে বাংলাদেশকে অচল করার চেষ্টা হলো। শোলাকিয়ায় ঈদগাহে হামলা হলো। ক্রমাগতভাবে হামলা হতে থাকলো। এরমধ্যেই হলি আর্টিজানের হামলা হলো। সারা পৃথিবীর মানুষ বিশেষ করে আমেরিকা বলেছিল বাংলাদেশ শেষ হয়েছে গেছে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
অজানা কারণে ইসলামি চিন্তাবিদরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যারা ইসলামি চিন্তাবিদ এবং যারা ওয়াজ মাহফিল করেন তারা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কথা বলেন না।’
আইজিপি বলেন, ‘জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ইসলামি চিন্তাবিদ, মাওলানা ও ধর্মীয় নেতা যারা আছেন তাদের কথা বলতে হবে। কারণ বিশ্বব্যাপী ইসলামিক চিন্তাবিদদের কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘অনেকেই বলেছিল জঙ্গীবাদ থেকে বাংলাদেশ কখনো বেরোতে পারবে না। তবে আল্লাহর রহমত আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে পেরেছি। আমাদের সব সময় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।’
‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেন ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।


