ইসলাম জযবার নাম নয়, ভারসাম্যতার নাম : আল্লামা মাসঊদ

ইসলাম জযবার নাম নয়, ভারসাম্যতার নাম : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় রিপোর্ট : ইসলাম জযবার নাম নয়, বরং ভারসম্যতার নাম মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল হজরত ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, ইসলাম ভারসম্যতার নাম, মধ্যপন্থা অবলম্বেন নাম। শুধু ভারসম্যতার নাম না, ভারসম্যতার পাশাপাশি ‘আদল’ এর নাম ইসলাম।

জযবার উপর সিদ্ধান্ত হয় না, সিদ্ধান্ত হয় দালাইলের উপর উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, জযবার যেমন উপকার আছে, তেমন ক্ষতি ও আছে। জযবা একটা অস্ত্রের নাম, অস্ত্রে মত। আর অস্ত্রের উপকার ও ক্ষতি দুইটাই আছে। তাই জযবার উপর ভিত্তি করে কখনো শরীয়তের কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেয়া যাবা না, বরং সিদ্ধান্ত সবসময় দালাইলের উপরে হবে। ইসলাম ও শরীয়ত দালাইলের এতেবার করে, জযবার নয়। আর এই জন্যেই জযবার উপর সিদ্ধান্ত হয় না, সিদ্ধান্ত হয় দালাইলের উপর।

৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইসলাহী ইজতেমা কিশোগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বেলঙ্কা-ইছাপশর জামে মসজিদে উলামায়ে কেরামের বিশেষ বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

ইসলামকে বুঝতে হবে আকাবিরের সমঝের আলোকে দাবি করে ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা বলেন, বর্তমান যামানার উলামায়ে রাব্বানী, উলামায়ে হক্কানীরা হলেন এই যামানার আকাবির। জনসাধারণ ইসলামকে বুঝতে হবে উলামায়ে কেরামের সমঝের আলোকে। আর উলামায়ে কেরাম তাদের সমঝকে ন্যস্ত করবেন পূরববর্তী আকাবিরদের সমঝের উপর। তারা ইসলামের ব্যাখা দিবেন পূরবর্তী আকাবিরদের ব্যাখার আলোকে।

হক্কানী উলামায়ে কেরাম কখনো জযবার উপর কাজ করেন না মন্তব্য করে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, উলামায়ে কেরাম জযবার দ্বারা প্রভাবিত হন না, জযবার উপর কাজ করেন না। উলামায়ে কেরাম সবসময় উম্মতের জন্য কল্যাণকামী দালাইলের উপর ভিত্তি করে কাজ করেন। আর জনসাধারণের জযবাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু বর্তমান যামানায় আমাদের উলামায়ে কেরামা জযবার দ্বারা প্রভাবিত। তারাও জযবার উপর ভিত্তি করে কাজ করেন। জনসাধারণের জযবাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন ও মনে করেন না।

তরুণদেরকে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো আমাদের দায়িত্ব উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, তরুণরা জাতির মেরুদন্ড। তরুণরা সবসময় ভবিষতকে সামনে রেখে বড় হয়। যখন তাদেরকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো হবে, তখন তারা তোমার কথা গ্রহণ করবে। ভবিষ্যৎ অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *