ক্রীড়া ডেস্ক : কেটে গেছে পাঁচটি আসর। শিরোপা তো দূরে থাক ফাইনাল খেলার সৌভাগ্যও হয়নি। ষষ্ঠ আসরে যেন একসঙ্গে সব স্বপ্ন পূরণ। প্রথমবার ফাইনালে খেলেই শিরোপা। তাও আবার ১৪১ রানের দুর্দান্ত একটা ইনিংস নিজের ব্যাট থেকে। তিনি আর কেউ নন, দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। তার অগ্নিঝরা ব্যাটিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে ষষ্ঠ আসরে এসে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
ফাইনালে ২০০ রানের জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকে ভালোই খেলছিল ঢাকা । ব্যাট করতে নেমে ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিচ্ছিল ডায়নামাইটসরা। উপুল থারাঙ্গার পর দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন রনি তালুকদার। তবে তিনি ফিরতেই পথ হারায় রাজধানীর দলটি। পরে মুড়ি মুড়কির মতো উইকেট হারিয়েছে ঢাকা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৮২ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে সাকিব বাহিনী। এতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে ১৭ রানের দুর্দান্ত জয়ে বিপিএল ষষ্ঠ আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।
কুমিল্লার পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি এবং মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও থিসারা পেরেরা দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিমের ঝড়ো ইনিংসে তিন উইকেটে ১৯৯ রান করে কুমিল্লা। ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্কতার সঙ্গেই শুরুটা করে দলটি। তবে ৯ রানে রুবেল হোসেনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন এভিন লুইস। এরপর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে যতোটা সম্ভব সামনে চলার চেষ্টা করেন তামিম।
তামিমের সেই প্রচেষ্টা কাজে লেগেছে। দ্বাদশ ওভারে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন বিজয়। ৩০ বল থেকে দুটি চারে ২৪ রান করে ফেরেন তিনি। বিজয় আউট হওয়ার পরপরই রান আউট হয়ে যান শামসুর রহমান। পরে ইমরুল সঙ্গী হন তামিমের। একপ্রান্ত ধরে রাখা ছাড়া ইমরুল তেমন কিছু করেননি।
তবে অপরপ্রান্তে ব্যাটে ঝড় তোলেন তামিম। শেষ দিকে যেন তামিমের ব্যাট হয়ে ওঠে আগুনের মতো। ৬১ বল থেকে ১০টি চার ও ১১টি ছক্কার মারে তামিম করেন ১৪১ রান। আর ইমরুল ২১ বল থেকে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এ নিয়ে দুইবার বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা। এর আগে ২০১৫-১৬ আসরে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। ২০১৯ আসরে তাদের ক্যাবিনেটে শিরোপা তোলার মূল কারিগর তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে হার না মানা ১৪১ রানের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে সুপারম্যানের মতো দুটি ক্যাচ ধরেছেন তিনি।


