নিজস্ব প্রতিবেদক ● আসন্ন ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের জন্য লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। এ ক্ষেত্রে আবেদন (স্লিপ) পদ্ধতিতে কেবিন বুকিং দিতে হবে। জমা পড়া স্লিপ যাচাই-বাছাই শেষে যাত্রীদের টিকিট দেয়া হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে সবচেয়ে বড় মাধ্যম ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে নানা নিয়মে কেবিনের টিকিট অগ্রিম বুকিং দিতে হয়। এরমধ্যে ক্রিসেন্ট শিপিং লাইন্সের সুরভী লঞ্চ ও সুন্দরবন নেভিগেশন স্লিপ জমা নিয়ে আগাম টিকিট দেয়। অন্য বেশিরভাগ লঞ্চ কোম্পানি আগে আসলে আগে পাবেন পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘরমুখো মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করবে। সুরভী লঞ্চের স্লিপ জমা নেয়া মঙ্গলবার শুরু হলেও সুন্দরবন নেভিগেশন এখনো দিন ধার্য করেনি। সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেবিনের টিকেটের জন্য স্লিপ জমা নেবেন ৮ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১৫ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের হাতে ঈদের অগ্রিম টিকিট তুলে দেয়া হবে।
এ সংক্রান্ত নোটিশও তাদের টিকিট কাউন্টারে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। সুরভী লঞ্চ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক রাকিব হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রীদের জন্য ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট ও বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য ০৪ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের নিয়মিত ও বিশেষ সার্ভিসের টিকিট আবেদনের আওতায় থাকবে। এরআগে ও পরের টিকিটের জন্য আবেদন করতে হবে না। সুন্দরবন নেভিগেশনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক রাকিব হোসেন জানান, তারা এখনো স্লিপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। এ ক্ষেত্রে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য ও সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক শহিদুল ইসলাম পিন্টু বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মালিকরা যার যার নিজস্ব নিয়মানুসারে টিকিট দেবেন। লঞ্চের মূল অফিসগুলো বরিশালে হওয়ায় আবেদন এখানেই জমা দিতে হবে। যাত্রীদের স্বশরীরে হাজির হয়ে টিকিট নিতে হবে।
তিনি বলেন, এর ফলে কেবিনের টিকিট পেতে যাত্রীদের কম হয়রানির শিকার হতে হয়। তেমনি লঞ্চের টিকিট কালোবাজারি রোধ ও দালালদের হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করাও সম্ভব হয়। তিনি জানান, সারা বছরই এ নৌ-রুটে লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদুল ফিতর ও কোরবানির ঈদে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সে কারণেই প্রতি বছর দুই ঈদে লঞ্চের কেবিন বুকিং দিয়ে অগ্রিম টিকিট হাতে হাতে নিতে হয়। লঞ্চের কোম্পানি ভেদে নানা নিয়মে টিকিট বিক্রি করে থাকে।


