নিজস্ব প্রতিবেদক ● ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অপহরণের একদিন পর এক প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত প্রকৌশলী সিদ্দিক আহমেদ (৬০) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের বসুন্ধরা গ্রুপের বিটকো প্রজেক্টের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত গৃহবধূ আসমা বেগম (৩২) ওই এলাকার মনির মোল্লার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে মনির পলাতক রয়েছেন। উপজেলার হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মনসুর আহম্মেদ জানান। অন্যদিকে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলার আইন্তা এলাকা থেকে গত শুক্রবার প্রকৌশলীর লাশ তারা উদ্ধার করেন।
এদিকে, স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই মনসুর বলেন, মনির তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে হাসনাবাদ এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার বিকালে মনির ও আসমার মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে আসমার পিঠে কুপিয়ে জখম করেন। এসময় আসমার চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়; পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসআই বলেন, আসমার মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে লাশ রেখেই মনির পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে। তার পিঠে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিদ্দিকের ছেলে নূরুলের বরাত দিয়ে এসআই শরিফুল বলেন, সিদ্দিক বুধবার সন্ধ্যায় অফিস থেকে বের হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসার দিকে রওনা হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অপহরণকারীরা নূরুলের মোবাইলে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনা কাউকে জানানো হলে সিদ্দিককে হত্যারও হুমকি দেয় তারা। এসআই বলেন, গত শুক্রবার সকালে আইন্তা এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে সিদ্দিকের পরিবারের লোকজন গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। সিদ্দিককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিদ্দিকের ছেলে গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


