ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা (২য় পর্ব)

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা (২য় পর্ব)

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা

সেলিনা আক্তার :  বড়োদের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে নিউমোনিয়ায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ায় প্রবণতা থাকে বেশি। শিশুরা একে অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করে। ফলে খেলাধুলার সময় অসুস্থ শিশু বা জীবাণু মিশ্রিত বাতাসের সংস্পর্শে এসে সুস্থ শিশুরাও নিউমোনিয়ার জীবাণু আক্রান্ত হয়। এভাবে একটি আক্রান্ত শিশু থেকে অন্য আরো শিশু আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুদের নিউমোনিয়ার লক্ষণ খুবই সাধারণ ও পরিষ্কার যা সাধারণ মানুষও ধরতে পারবে। এজন্য শিশুদের একটু লক্ষ্য রাখাই যথেষ্ট। জ্বর, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় হয়ে থাকে, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত নেওয়া, শ্বাস গ্রহণের সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্টবোধ বা কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস, বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া, বুকে ব্যথা, খেতে না চাওয়া বা খেতে না পারা, শিশুর চঞ্চলতা কমে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, বমি করা ইত্যাদি নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো দেখা গেলেই শিশুকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস খুব দ্রুত হয়। দুই মাসের কম বয়সি শিশুদের মিনিটে ৬০ বার বা তার চেয়ে বেশি শ্বাস নিতে দেখা যায়। দুই মাস থেকে ১২ মাস বয়সি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিনিটে ৫০ বার বা তার চেয়ে বেশি শ্বাস নেয়া এবং এক বছরের বড়ো শিশু ৪০ বার বা তার চেয়ে বেশিবার শ্বাস নেয়। দ্রুত শ্বাসের সঙ্গে বুকের খাঁচা দেবে যায়, নাকের লতি ওঠা-নামা করে। নিউমোনিয়া বেশি হলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে শরীরের রং নীল হয়ে যেতে পারে, যা সায়ানোসিস (Cyanosis) নামে পরিচিত।

শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে বলে এ সময় নিউমোনিয়া বেশি হয়। এ সময় সর্দি-কাশির প্রবণতাও বেশি হয়। তবে সর্দি কাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়। সর্দি কাশি যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণিত হয় তখন নিউমোনিয়া হয়ে যায়। নিউমোনিয়া রোগ বায়ুবাহিত হওয়ার কারণে এটা বেশি ছড়ায়। আর শীতকালে অনেক মানুষ একসঙ্গে অনেকটা গাদাগাদি করে থাকে বলে আবার একই লেপের নিচে অনেকে একত্রে ঘুমায় বলে নিউমোনিয়ার জীবাণু সংক্রমণের আশংকা বেশি থাকে। গ্রাম দেশে আগুন জ্বালানোর সময় যে ধোঁয়া হয় সেটাও শিশুদের জন্য খুব ক্ষতিকর।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখনও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী বিশ্বজুড়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতি ৩৫ সেকেন্ডে ১ জন শিশু মৃত্যুবরণ করছে। দিনে মৃত্যুবরণ করছে ২ হাজার ৫শ’ শিশু। এ অবস্থা পরিবর্তনে মা-বাবার মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।

লেখক : কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *