একুশে বইমেলার দুয়ার খুলছে শুক্রবার

একুশে বইমেলার দুয়ার খুলছে শুক্রবার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে একুশে বইমেলা হিসেবে বেশি পরিচিত এ মেলার আরেক নাম প্রাণের মেলা। প্রতিবছর বাংলা একাডেমি এ মেলার আয়োজন করে। পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলে এই প্রাণের মেলা। একুশের চেতনায় ঐতিহ্যের বইমেলার দুয়াার উন্মোচন হচ্ছে শুক্রবার (১ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায়। ফেব্রুয়ারির প্রথমদিন থেকেই শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মর্যার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দিতে বাঙালি লেখক-কবি-সাহিত্যিকরা পাঠকের জন্য নতুন নতুন বই নিয়ে হাজির হবেন মাসব্যাপী এই মেলায়। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের মেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরেই সব বইপ্রেমীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হবে গ্রন্থমেলার দ্বার। বাংলা একাডেমির দেওয়া গ্রন্থমেলার সময়সূচি অনুযায়ী শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা, সপ্তাহের অন্যান্য দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার হলেও উদ্বোধন না হওয়া পর্যন্ত খোলা হবে না বইমেলার দ্বার। আর শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মেলা সর্বসাধারণের জন্য সকাল ১১টায় উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভারতের কবি শঙ্খ ঘোষ, মিশরের লেখক ও গবেষক মোহসেন আল আরেশি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতিকে স্মরণ করতে এবং সারাদেশে বাংলা ভাষার সৃজনশীল ধারাকে ছড়িয়ে দিতে বাংলা একাডেমি নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে এ মেলার।বইমেলাকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও মাসব্যাপী দেশি-বিদেশি হাজারো কবি, লেখক, সাহিত্যিকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। নতুন নতুন বইয়ের পসরা সাজিয়ে এরইমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে স্টলগুলো।

একুশে গ্রন্থমেলায় এবার ৪৯৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। গতবার যে সংখ্যা ছিল ৪৬৫টি। আর ছুটির দিন ছাড়া গ্রন্থমেলা চলবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিবছরই মেলাকে ঘিরে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বই বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ডও তৈরি হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোগ। যেমন, লেখকদের নিজের বই নিয়ে বলার সুযোগ দিতে করা হয়েছে লেখক মঞ্চ। ‘লেখক বলছি’ এবারের বইমেলার নতুন সংযোজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তর-পূর্ব কোণে প্রতিদিন ৫ জন লেখক এই মঞ্চে বসে তাঁদের বই এবং লেখালেখি নিয়ে কথা বলবেন। পাঠকদেরও সরাসরি লেখকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকছে। এবারই প্রথম বয়স্ক পাঠক ও ক্রেতাদের জন্য মেলায় থাকছে হুইল চেয়ারের সুবিধা। মেলা প্রাঙ্গণে এসে বয়োবৃদ্ধরা এই সুবিধা নিতে পারবেন। প্রবীণরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাফেরা করে বই কিনতে ও আড্ডা দিতে পারেন, এমনবি বিশ্রামও নিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।

একুশের চেতনার এই মেলায় এবার মেলায় ভাষা শহীদদের পাঁচটি চত্বর থাকছে এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে চারটি আর বাংলা একাডেমিতে একটি৷ এছাড়া নানা ডিসপ্লে বোর্ড ও মঞ্চে স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস প্রদর্শিত হবে। বইমেলা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবার পুরো গ্রন্থমেলাকে আনা হচ্ছে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমৈর (জিপিএস) আওতায়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের মেলার স্টলগুলো রাখা হচ্ছে নির্দিষ্ট দূরত্বে। মেলার দর্শনার্থীরা যেনো বই কেনার পাশাপশি এখানে একটু স্বস্তিতে বসতে পারে, একটু ঘোরাফেরা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা সিভিল সার্জন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ব়্যাব, আনসার ও বিভিন্ন সংস্থা মেলার নিরাপত্তার কাজে যুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। শাহবাগ থানা মেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে৷ টিএসসি থেকে দোয়েল চত্ত্বর পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *