এমপিওভুক্তির উদ্যোগ প্রশংসনীয়
শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একজন শিক্ষক মাথার তাজ। আশায় বুক বেঁধে থাকেন কখন এমপিওভুক্তির আশার আলো জ¦লে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমপিওভুক্তির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এ কথা বলে রাখা ভালো, সম্মানের মুকুট পরা এই শিক্ষকদের দায়িত্ব পরিপালনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আরও বেশি সযত্ন হওয়া উচিত। এমপিওভুক্তির কারণে তাদের হৃদয়ে যে আলোর প্রদীপ জ¦লে উঠেছে তাতে শিক্ষার্থীরাই বেশি উপকৃত হওয়ার কথা। আমরা সেটাই আশা করি।
প্রধানমন্ত্রী দেশের আরও ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়ে শিক্ষকদের আনন্দিত করেছেন। তিনি বলেছেন, নীতিমালা অনুযায়ী সব নির্দেশনা পূরণ করতে পারায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। কেউ যদি শিক্ষার মান ঠিক রাখতে ব্যর্থ হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার এমপিওভুক্তি বাতিল হবে। এমপিওভুক্তি হয়ে গেছে, বেতন তো পাবই, ক্লাস করানোর দরকার কী, পড়ানোর দরকার কী- এ চিন্তা করলে চলবে না।
বুধবার গণভবনে নতুন করে এমপিওর তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য তাৎপর্যের দাবিদার। ২ হাজার ৭৩০টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩৯টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯৯৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯৩টি কলেজ, ৫৬টি ডিগ্রি কলেজ, ৫৫৭টি মাদ্রাসা ও ৫২২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। এমপিওভুক্তির ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সিংহভাগই যাবে দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকা থেকে। স্বভাবতই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে মনোযোগী হবেন- এমনটিই প্রত্যাশিত।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা যত বাড়ছে, শিক্ষার মান ততই নিচে নামছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনা কতটা হয় তা প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। অথচ প্রাথমিক শিক্ষকরা যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান তা অসংখ্য কর্মজীবীর জন্যই ঈর্ষণীয়। সরকারি কলেজগুলোর মান নিয়ে একসময় গর্ব করা হতো তা এখন ইতিহাসমাত্র।
সরকার নতুন করে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় আমরা এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে আশা করতে চাই এ সিদ্ধান্ত যে সঠিক তা প্রমাণে শিক্ষকরা তাদের শিক্ষকসুলভ মনোভাবের প্রকাশ ঘটাবেন। শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অবদান রাখবেন। এটি তাদের কাছে দেশের প্রত্যেক মানুষের প্রত্যাশা বলেই আমরা মনে করি।


