পাথেয় রিপোর্ট : এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। সারা দেশ থেকে সেখানে ছোটে যায় ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে এক কাতারে নামাজ আদাযের পর প্রভুর দরবারে হয় মোনাজাত। কি সুন্দর নুরানী পরিবেশ। আাহাজারি-রোনাজারিতে প্রার্থনা হয় ক্ষমার, আল্লাহর রহমতের। ঈদ এলেই এমন জামাতে শরীক হওয়ার স্মৃতি বারবার ফিরে আসে মনে।
এমনই একজন হলেন মাওলানা শোয়াইব আহমাদ। তিনি শোনালেন, তার শোলাকিয়ার স্মৃতিকথা, সারাজীবনের একটি শখ ছিলো শোলাকিয়ায় নামাজ পড়ার। অতবড় একটি জামাতে নামাজ পড়বো বলে সর্বপ্রথম ২০১৬ তে গেলাম ওখানে। কিন্তু সেবার আর সৌভাগ্য হয়নি নামাজের। ওই বছরই জঙ্গী হামলা হয় ওখানে। তাই মাঠে আর ঢুকতে দেয়নি প্রশাসন। কিন্তু আশা ছাড়িনি আমি। আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুম পেছনে নামাজ আমি পড়বোই ।আল্লাহর কাছে দোআ করেছি পরের বার যেন শোলাকিয়ায় যেতে পারি। এরপরের বছর আল্লাহর রহমতে ওখানে যেতে পারলাম। নামাজও আদায় করলাম। লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে শরীক হলাম দোআয়। সে এক অন্য রকম অনুভূতি।
ষাটোর্ধ মুসল্ললী আবু তালেব তিনিও জানালেন, শোলাকিয়ার ঈদ স্মৃতি।
কাকরাইলের মাওলানা ইমরান একটু রসিয়ে বলেন, আমার কাছে ঈদকে ঈদ মনে হয় শোলাকিয়ায় গেলে। ঈদের এমন আমেজ আর কোথায় পাওয়া যায় বলুন! বিগত চার বছর আমি নিয়মিত যাচ্ছি শোলাকিয়ায়। এবারও যাবো ইনশাআল্লাহ।
বাগেরহাট থেকে যাওয়া মাওলানা ইসহাক ফরিদী জানান, সারারাত জার্নি করে সকালে যখন শোলাকিয়ায় যাই ক্লান্তিতে মুষড়ে পড়েছি একদম কিন্ত যখনই ঈদের বয়ান শুরু হলো, আমার সব অবসাদ যেন কোথায় চলে গেল! এত এত মানুষের সমাগম। একসঙ্গে নামাজ আদায় সে এক অন্যরকম আনন্দানুভূতি। নিয়ত করেছি প্রতি বছর ওখানেই নামাজ পড়বো ইনশাঅল্লাহ।
সিলেটের আব্দুল্লাহ শাকিরের আবেগ অন্যরকম। তার একটাই কথা যতদিন বেঁচে আছি প্রতিবছর ঈদের নামাজ শোলাকিয়ায় আদায় করতে চাই। বিগত তিন বছর আল্লাহর রহমতে নিয়মিত যাচ্ছি।
টাঙ্গাইলের মাওলানা হুমায়ুন রাশিদ জানান, আমার তো কেবল আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের দুআয় অংশগ্রহণ করতে চায়। শোলাকিয়ায় যে আমীন আমীন ধ্বনি, বার বার কানে বাজে।


