পাথেয় টোয়েন্টিপোর ডটকম : চীনের দক্ষিণের ইউনান প্রদেশের ওয়েইশান শহরের তিনটি মসজিদ চীন সরকার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। হংকংভিত্তিক পত্রিকাটি জানায়, ‘অবৈধ ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার’ দায়ে হুই মুসলিমদের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
টুইটারের বিভিন্ন ভিডিওর উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার পত্রিকাটি জানায়, কর্তৃপক্ষ মসজিদটি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করলে কয়েক ডজন পুলিশ অফিসারের মুখোমুখি হয় মুসলিম প্রার্থনাকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাউকে গ্রেফতার করেছে কিনা জানা যায়। মর্নিং পোস্টের ওয়েবসাইটের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মসজিদের দরজায় শিকল পেঁচিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে, তবে মসজিদটির নাম জানা যায়নি।
চায়না পিপল’স ডেইলির তথ্য অনুযায়ী ওয়েইশানের স্থানীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হুইহুইডেং, সাঞ্জিয়া এবং মামিচ্যাংয়ের গ্রামে ‘ধর্মীয় ক্ষেত্রে ঐকতান ও স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় অভিযান চালানো হয়েছে। ইউনান প্রদেশে প্রায় সাত লাখ মুসলিম বসবাস করে বলে ধারনা করা হচ্ছে। চীনের ৫৬টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ১০টি সম্প্রদায় মুসলিম। এই জনগোষ্ঠীগুলোর বেশিরভাগ উত্তর ও উত্তরপশ্চিম চীনে বসবাস করে।
এদিকে মুসলিমদের কোণঠাসা করতে নতুন আইন আইন করছে চীন সরকার। জানা যায়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইসলাম ধর্মকে ‘চীনা ঘরানার সমাজতন্ত্রের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে চীন সরকার।
চীনা সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমস সূত্রে জানা যায়, ৪ জানুযারি শুক্রবার চীনের সরকারি কর্মকর্তারা ‘আটটি ইসলামী সংস্থা’র সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন আইন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে চীনের সরকারি কর্মকর্তারা ও সংস্থার কর্মকর্তারা ইসলামকে সমাজতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায়ে পরিচালিত করা এবং চীনা ঘরানা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে একমত হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনে যেসব আটটি ‘ইসলামী সংস্থা’র কথা বলা হয়েছে, সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এই আইনের ফলে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্ম চর্চা ও পালন আরো কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শি জিনপিং দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসায় পর দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিভিন্ন সখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানা অত্যাচার নেমে আসে। সেখানকার মুসলমানদের নামাজ পড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান পালনে নেমে আসে নানা বিপত্তি।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে আসে, চীনে স্থানীয় মুসলমানদের দাঁড়ি রাখার ওপর কর বসানো হয়। কর বসে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার ওপর। এছাড়া হিজাব পড়াতেও গ্রেপ্তার করা হয় অনেক জনকে। এছাড়া দেশটিতে মুসলিম শিশুদের আরবি শেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়।


