কথিত হ্যামিলন বাজায় মওদুদীর বাঁশি
আমিনুল ইসলাম কাসেমী : ছোটবেলায় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প পড়ে ছিলাম। যে নাকি তার বাঁশির সুরে শহরের ইঁদুর তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আর যখন তিনি চুক্তিকৃত ইনআম পেলেন না, তখন তার থলে থেকে আরেক বাঁশি বের করে বাজাতে লাগলেন। যে বাঁশির সুর ছিল মানুষ পাগল করা। সেই বাঁশিওয়ালা তার বাঁশির সুর দিয়ে শহরের ছেলে -মেয়েদের বের করে পাহাড় – পর্বতে নিয়ে চলে গেল, যারা আর কোনদিন ফিরে এলো না।
আজহারী সাহেবকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা বলে ওনার স্ব-গোত্রের মানুষেরা আখ্যা দিলেন। তাহলে আজহারী সাহেব কার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন? কার সঙ্গে ওনার সখ্যতা? কোথা থেকে ইনআম পাবার আশায় সারাদেশের যুব সমাজকে গোমরাহীর দিকে ধাবিত করছেন?
সত্যি তিনি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। প্রথমে কিছুদিন ময়দান চাষ করেছেন। তখন কিন্তু এত বিতর্কিত হননি। এত বেফাঁস কথা বার্তা বলেননি। কিন্তু যখনই তার ময়দান তৈরী হল, তখনই শুরু করে দিলেন বিতর্কিত কথা। উল্টা- পাল্টা ফতোয়া। কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা।
তিনি বাঁশিয়ে বাজিয়ে এদেশের যুব সমাজকে ভ্রান্ত মওদুদী মতবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা যেভাবে শহরের ছেলে- মেয়েদের অচেনা জায়গায় নিয়ে চলে গেছেন, ঠিক আজহারী সাহেব লক্ষ লক্ষ যুবককে মওদুদীর গোমরাহ আকিদার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, যেই গোরাহী থেকে এই সব নিরীহ মানুষগুলো ফিরে আসা অসম্ভব।
আসলে কথা কি, আজহারী সাহেব মওদুদীর সেই বাঁশি হাতে নিয়েছেন। মওদুদী সাহেব যে বাঁশি বাজিয়ে নতুন এক মতবাদের জন্ম দিয়েছিলেন, ঠিক হুবহু ঐ বাঁশি এখন আজাহারীসহ কতিপয় বক্তার হাতে। মওদুদী যেভাবে বাজিয়েছেন, একই ঢঙে ওনারা বাজাচ্ছেন। কোন পার্থ্যক্য নাই।
ইসলামের সহী আকিদার বাঁশি যে কেউ বাজাতে পারেন, কোন মানা নেই। এদেশের হাজারো আলেম সহী আকিদা- বিশ্বাসের কথা, ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করে যাচ্ছেন।তাদের নিয়ে কোন ইশকাল হচ্ছে না। আজহারী সাহেবও কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে সহী তরিকার বাঁশির সুর দিয়ে ছিলেন। কিন্তু যখন ঐ মওদুদী সাহেবের বিতর্কিত বাঁশি হাতে নিয়েছেন, তখনই কিন্তু তিনি বহু ফেতনার জন্ম দেওয়া শুরু করে দিলেন।
মওদুদী সাহেবের ভ্রান্ত- আকিদায় বিস্বাসী যারা, তারাই এদেশের ফেতনার দ্বার উন্মোচন করছেন। আমীর হামজা বলেন আর তারেক মনোয়ার বলেন, নিত্য নতুন ফেতনার আবির্ভাব ঘটাচ্ছেন।
আজহারী সাহেব মওদুদী সাহেবের মত একেক সময় একেক গোমরাহীর ডেলিভারী দিচ্ছেন। অত্যান্ত বেয়াদবী মুলক কথার জন্ম দিচ্ছেন। বিশেষ করে সাহাবায়েকেরাম এবং উম্মাহাতুল মুমিনিন সম্পর্কে তার বাক্য গুলো মারাত্মক। এমন বিবর্জিত আকল – জ্ঞান ক্ষমার অযোগ্য।
মওদুদী সাহেবের এমন অভ্যাস ছিল। হযরত সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে মওদুদী সাহেবের আপত্তিকর কথা- বার্তা এবং লিখনী। যেটাকে আলেম সমাজ কোনদিন মেনে নেননি। ওলামায়ে কেরাম মওদুদীর ঐ সব ভ্রান্ত চিন্তা- চেতনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আজহারী সাহেব এক পা দু পা করে মওদুদীর সেই চিন্তাধারা বাস্তবায়নের মিশনে নেমেছেন বোঝা যাচ্ছে। সেই রাস্তায় চলছেন, যে রাস্তায় চলেছেন গোমরাহ মওদুদী সাহেব। সুতরাং আজহারীর এই চিন্তা- চেতনা গুলো ওলামায়েকেরাম সাপোর্ট করছেন না। এই ভ্রান্ত বিবেক আসলেই গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলো প্রত্যাখ্যাত। এগুলোর নর্দমায় ছুড়ে ফেলার যোগ্য।
মওদুদী সাহেবের সেই ভ্রান্ত- চিন্তা ধারার বাঁশি একেক সময় বেজে ওঠে। কখনো বক্তৃতায়, কখনো লিখনীতে। ওরা একেক সুরতে ময়দানে আবিস্কার হয়। কিন্তু ওলামায়ে কেরামের মেমোরেতী ধরা পড়ে সবার আগে। ওদের প্রতারণা, ওদের ধোঁকায় পড়ে যায় সরল- প্রাণ মানুষ। সারাদেশের এখন কি অবস্হা? দেখবেন, দল বেঁধে চলছে ঐ দিকে। মানুষের বোঝার শক্তি নাই।মহিলা পুরুষ একাকার হয়ে যাচ্ছে। সরাসরি ময়দানে জড় হচ্ছে।
কিন্তু এটাই কি দেখার বাকি ছিল? কেন এরকম হয়ে গেল? আসল কথা হল, এমনিতে নাচুনে বুড়ি, তারপর ঢোলের বাড়ি। মহিলাদের এমনিতে পর্দায় রাখা যায় না, কিন্তু এমন ফতোয়া দেওয়া হয়েছে পর্দার ব্যাপারে, এখন কি মহিলাদের ঘরে রাখা যায়?
মানে মনগড়া ফতোয়া আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। নিজের ইচ্ছেমত কুরআন হাদীস বুঝলে যা হয়, তাই এখন হচ্ছে। মওদুদী সাহেব যেমন নিজের মনগড়া ভাবে কোরআন বুঝতে চেয়েছেন, সলফে সালেহীনদের তোয়াক্কা করেননি। ঠিক বর্তমানের আজহারী, হামজা, মনোয়ার সাহেবগণ ঐ একই কায়দায় চলছেন।সেই বাঁশির সুর তুলছেন। এজন্য সাবধান হতে হবে এসব নিত্য নতুন বাঁশিওয়ালা থেকে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


