করোনাক্রান্ত হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব

করোনাক্রান্ত হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব

করোনাক্রান্ত হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব কেইলি ম্যাকেনানি। তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে বলে তিনি নিজেই আজ জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের তালিকায় ম্যাকেনানি সর্বশেষ সংযোজন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, সে বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক।

এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানাননি তার চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, আজই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, তা পরে জানানো হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস জানান, করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ‘অবিশ্বাস্য রকম উন্নতি’ করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এমন বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়া কোভিড-১৯ রোগীদের দেওয়া হয়।

কেইলি ম্যাকেনানি এ সম্পর্কিত এক টুইটার পোস্টে জানান, তার মধ্যে কোনো লক্ষণ ছিল না। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন তার কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। কেইলি ম্যাকেনানি কীভাবে কবে আক্রান্ত হলেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর অনেক সময় ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে লক্ষণ প্রকাশ পেতে।

অনেকের শরীরে ভাইরাসটি রয়েছে কিনা, তা ধরা পড়তেও এমন সময় লেগে যায়। ফলে তার আক্রান্ত হওয়ার খবর বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, গতকাল রোববার তিনি যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তার মুখে মাস্ক ছিল না।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে উদ‌গ্রীব হয়ে উঠেছেন। রোববার তিনি এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপও প্রয়োগ করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি।

তারা জানান, নিজেকে বন্দি মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একঘেঁয়েমির কারণেও তিনি যে কোনোভাবে হাসপাতাল ছাড়তে চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি তার দেশ ও বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান যে, একটি ভাইরাসের কাছে তিনি কাবু নন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই তোড়জোড় করুন, তার চিকিৎসকেরা কিন্তু গতকাল তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়তে চাননি। বরং তারা তাকে হাসপাতালের সামনে কিছুটা বেরিয়ে আসার অনুমতি দেন, যাতে হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা তাকে দেখতে পায়।

চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও কম সমালোচনা হচ্ছে না। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রামক রোগ রয়েছে এবং রক্তনালিতে সরাসরি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে, এমন রোগীকে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি অভিনব।

আজ সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্ক মিডোস জানান, আজই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিয়ে বসবেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *