করোনা: ডেল্টা-তাণ্ডবের সময়ে ফেরত যাচ্ছে ভারত, ৭ মাসের মাঝে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনা: ডেল্টা-তাণ্ডবের সময়ে ফেরত যাচ্ছে ভারত, ৭ মাসের মাঝে সর্বোচ্চ শনাক্ত

• সম্মুখসারীর যোদ্ধা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ প্রদান শুরু
• যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই মৃত্যু সংখ্যায় ভারতের অবস্থান
• সব রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসছে কেন্দ্রীয় সরকার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে এক দিনে শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৭৯ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজারের বেশি।দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট এক লাখ ৭৯ হাজার ৭২৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্য ওমিক্রনের রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার হার ৩৩ জন।

দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা আগেরদিন রবিবারের চেয়ে একলাফে বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।

মহামারীতে সবচেয়ে নাজুক দশায় পড়া রাজ্যগুলোর মধ্যে মহারাষ্ট্রে রোববার ৪৪ হাজার ৩৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। রয়টার্স জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে সুইমিং পুল এবং জিমগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউয়ের সময় আরও বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ওমিক্রন: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারত ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার

এদিকে সোমবার থেকে চিকিৎসাকর্মীসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কোভিড টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে ভারত। ১৩০ কোটি মানুষের এই দেশে এ পর্যন্ত ১৫১ কোটি ৯৪ লাখের বেশি সিঙ্গেল ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মৃত্যু সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র (৮ লাখ ৫৯ হাজার) ও ব্রাজিলের (৬ লাখ ২০ হাজার) পরই অবস্থান করছে ভারত। এতদপ্রেক্ষিতে সোমবার রাজ্যগুলোর সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করার কথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে সব রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের।

সোমবার দুপুরে এই বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা। ফলে বৈঠকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয় কিনা ভারতবাসীর নজর থাকবে সেদিকে।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের দাপটে গতবছর মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ভারতকে। এর মধ্যে ৭ মে রেকর্ড ৪ লাখ ১৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়।

সে সময় হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে ট্রলি আর হুইলচেয়ারে রেখেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সঙ্কট তীব্র হয়ে ওঠে; অক্সিজেনের অভাবে অনেকের মৃত্যুও হয়। সেই পরিস্থিত সামলে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিল ভারত, দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার নেমে এসেছিল ২ শতাংশের নিচে।

কিন্তু নভেম্বরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন পুরো বিশ্বের মত ভারতকেও নতুন করে আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *