কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করুন
সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, পায়রা বন্দর, পায়রা বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ-দেশের সবচেয়ে মেগা প্রকল্প। এ প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় নিজেদের পরিচয়কে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে বাংলাদেশের বড় পাওয়া হবে এই মেগ প্রকল্পগুলো।
সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। এ বাজেটে অন্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মতো চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর জন্যও পৃথকভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ এসব মেগা প্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। করোনা সংকট না কাটা পর্যন্ত হয়তো এসব প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরুও করা যাবে না। ফলে মেগা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ নিয়ে সংশয় রয়েছে। বর্তমানে কভিড-১৯ সংকটের কারণে একমাত্র পদ্মা সেতু ছাড়া সব মেগা প্রকল্পের কাজই বন্ধ রয়েছে। সব প্রকল্প তো একই ধরনের গুরুত্ব বহন করে না। কিছু প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। সেগুলো সমাপ্ত হতে বেশি দেরি হলে ক্ষতি হবে। ফলে গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মেগা প্রকল্পের অনিবার্যতা নির্ধারণ করে বাকিগুলোর কাজও বন্ধ রাখা যেতে পারে। তবে মেগা প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা দরকার।
কভিড-১৯ শেষ হয়ে গেলে সেখানে বিনিয়োগ আসবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মিরসরাইয়ে জাপানিজ ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে মেগা প্রকল্পগুলোর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়বে। পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে। আমাদের উন্নয়নটাকে এখন মানুষের জীবন থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। করোনা ভাইরাস কভিডের প্রভাব শেষ হয়ে যাচ্ছে না সহসাই। ফলে ওই সব মেগা প্রকল্পের অনুকূলে যে বরাদ্দটা রাখা হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে ব্যয় করার মাধ্যমে।
আমরা মনে করি, উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বেকারত্ব দূর হয়। নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির এই আয়োজনও তারুণ্য যেনো জেগে উঠতে পারে। তারুণ্য জেগে উঠলেই বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।
– মাসউদুল কাদির


