কলমে উঠে আসুক ওলামায়ে দেওবন্দের ঐতিহ্য অবদান
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আজ আমরা হীনম্মন্যতায় ভুগছি। আমাদের পুর্বসুরীদের ঐতিহ্য অবদান না জানার কারণে, আমাদের মনটা ছোট হয়ে থাকে। বুক ফুলিয়ে চলতে পারি না। পদে পদে বাঁধা। নানাবিধ সমস্যা এসে হাজির হয় আমাদের সামনে।
সত্যি সত্যি যদি আমাদের আকাবির – আসলাফের অবদান সস্পর্কে জানতাম, তাদের কীর্তি নিয়ে আলোকপাত করতাম, তাহলে এ পরিস্থিতিতে পড়তে হত না আমাদের।
অথচ এদেশ ও জাতির পরতে পরতে ওলামায়ে দেওবন্দের অবদান।এই উপ মহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আলেম সমাজেরই সব চেয়ে বড় ভুমিকা। দেশের জন্য, দেশের মানুষের মুত্তির জন্য, জালিম শাহীর তখতকে নাস্তানাবুদ করার জন্য, আলেম সমাজই বুক পেতে দিয়ে ছিল সেদিন।
আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কেউ এ গুলো জানে না। দায়সারা ভাবে কিছু ইতিহাস পড়ানো হয়। বাকি সব কিছুই অজানা থেকে যায়।
আমরা অনেকেই জানি না, দারুল উলুম দেওবন্দ কেন? কোথায়? এবং কি কারণে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল? দারুল উলুম দেওবন্দের কি অবদান এ দেশ ও জাতির জন্য, তা কিন্তু আমাদের সন্তানদের অনেকেই জানে না।
এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আলেম সমাজের যে কত ভুমিকা রয়েছে। কত আলেম মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কত আলেম দেশ স্বাধীনের জন্য অবদান রেখেছিল। সে সব খবরও আমরা জানি না। আমাদের পাঠ্য পুস্তকে আলোচনা নেই। আলেম মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বই, প্রবন্ধ, গল্প, নেই। তাহলে কিভাবে জানবে আমাদের ছেলে- মেয়েরা।
এখন তো আমাদের ছেলে- মেয়েদের মনটা ছোট হয়ে থাকে। আমরা কাদের অনুসারী? দেশ মাতৃকার জন্য তাদের কি বা অবদান? তাদের কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে। তাদেরও পুর্সুরীদের কীর্তি নিয়ে গল্প করতে মনে চায়।
এছাড়া আমাদের পুর্বসুরী আলেমদের মধ্যে কারা বেশী খ্যাতনামা ছিলেন? ইলমে হাদীসে, ইলমে ফিকাহ, ইলমে তাফসীর, ইলমে আদব, বই রচনায় , ইতিহাস রচনায়, কারা সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আমাদের মুরুব্বীদের মধ্যে কে বেশী কিতাব লিখেছেন, কে কত তাফসীর লিখেছেন, এ রকম বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার কত অবদান, এ গুলো আমরা জানিনা।
এই বাংলাদেশে কোন কোন আলেম কত গুলো বই লিখেছেন। আলেমদের মধ্যে কে ভাল লেখক- গবেষক ছিল। এই দেশের কোন কোন আলেমের হাদীস শাস্ত্রে অবদান। কোন আলেমের তাফসীর শাস্ত্রে অবদান, ইলমে ফিকাহতে কোন আলেমের অবদান রয়েছে। এ সব বিষয় আমাদের অনেকেরই অজানা।
আমরা জানিনা ফখরে বাঙাল তাজুল ইসলাম কে ছিলেন? তাঁর অবদান কি ছিল? জানিনা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. সম্পর্কে। হাফেজ্জী হুজুর কে ছিলেন? তাঁর কি অবদান ছিল আমরা জানি না।
শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে ছিলেন? তাঁর কি অবদান? মুফতি আমিনী রহ. কে ছিলেন?
আমাদের সন্তানেরা জানেনা আল্লামা কাজী মু’ তাসিম বিল্লাহ( রহঃ) কে ছিলেন? জানেনা শামসুদ্দিন কাসেমী রহ. কে ছিলেন? তাদের কি অবদান ছিল এ দেশের জন্য। বর্তমানের সন্তানেরা জানেনা খতীব উবায়দুল হক রহ. সম্পর্কে। তারা জানেনা মুহিউদ্দিন খান রহ. সম্পর্কে। তারা জানে না মুহিউদ্দিন খানের লেখনী সম্পর্কে।
আমাদের অনেকেই মনে করেনা, চরমোনাই এর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর কথা। অনেকই বলতে পারেনা বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও মুহাদ্দিস আল্লামা আবুল ফাতাহ ইয়াহইয়া রহ. সম্পর্কে। তারা জানে না খ্যাতিমান লেখক, মুহাদ্দিস আল্লামা ইসহাক ফরিদী সম্পর্কে।
এরকম আমরা জানি না সিলেটের মাওলানা তাজাম্মুল আলী রহ. সম্পর্কে। শায়েখে কৌড়িয়া কে চেনে না বর্তমানের সন্তানেরা। চেনেনা যশোরের মাওলানা আবুল হাসান যশোরী রহ. সম্পর্কে।
এরকম শত শত খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরাম, যাদের এদেশ ও জাতির পরতে পরতে অবদান রেখেছেন। তাঁরা ছিলেন মুসলিম জাতির রাহবার। এ জাতিকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করে ছিলেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, ও সকল মনীষি গণের আলোচনা আমাদের নেই। আমরা যেন তাদের ভুলে যাচ্ছি।
অথচ একটা সময় ছিল, তারাই ছিলেন এ জাতির কর্ণধর। মুসলিম জাতি তাদের অনুসরন- অনুকরণ করত।
এজন্য বন্ধুদের খেদমতে আরজ, আমাদের পুর্বসুরী আলেম- উলামার ঐতিহ্য অবদান সম্পর্কে বেশী বেশী এবং বারবার তুলে ধরুন। এ জাতিকে স্মরণ করায়ে দিতে হবে। এ প্রজন্মকে জানাতে হবে আমাদের। যাতে আমাদের সন্তানেরা হীনমন্যতার শিকার না হয়। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


