কাকরাইল মসজিদের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা

কাকরাইল মসজিদের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলবী এখন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। বুধবার বিকাল ৪টা থেকে এখানে আছেন তিনি। অন্যদিকে মসজিদের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় তার অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তাবলীগ জামাত ও কওমি আলেমদের আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে এ পদক্ষেপ নেওয়া।

রমনা থানা পুলিশের পাশাপাশি কাকরাইল মসজিদের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান করছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) সদস্যরা। এছাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, মসজিদের মূল ফটক দিয়ে সব মুসল্লি প্রবেশ করতে পারছেন না। শুধু ভেতরে অবস্থানরত মুসল্লিরা কাউকে পরিচিত মনে করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে অনেকেই মসজিদে যেতে পারেননি।

অন্তত অর্ধশত মুসল্লি মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন জানান, মাওলানা সাদকে একনজর দেখার জন্য মসজিদের সামনে তারা উপস্থিত হয়েছেন। তাদের দাবি, বুধবার আসরের নামাজের আগ থেকে মূল ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেতরে পরিচিত ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা নামাজ পড়তে এসেছিলেন তাদেরকে অন্য মসজিদে যেতে বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

কঠোর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রমনা থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আসা ও ইজতেমায় অংশগ্রহণকে ঘিরে তাবলীগ জামাতের একটি অংশ ও কওমিপন্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, ‘আমরা এখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছেন। মাওলানা সা’দ ভেতরে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এখনও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কাকরাইল মসজিদে পৌঁছান মাওলাদা সাদ। পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে নেওয়া হয় তাকে। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় তার অংশগ্রহণে বাধা দিতে আন্দোলনে নেমেছেন কওমিপন্থী আলেম ও তাবলীগ জামাতের একাংশের কর্মীরা। এদিন সকাল ১০টা থেকেই বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। তাবলিগকর্মী রুমি জানান, বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা মাঠে যাওয়ার সব রাস্তায় প্রতিবাদ করছেন তারা। বুধবার সকালে বেফাকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সিনিয়র কওমি আলেমরা।

এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মাওলানা সাদ। বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে পুলিশি পাহারায় তাকে কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে মাওলানা সাদের ঢাকায় আসার বিরোধিতা করছেন বাংলাদেশ-ভারতের তাবলিগ জামাতকর্মী ও কওমিপন্থী আলেমদের একাংশ। আরেক তাবলিগ কর্মী শাহরিয়ার বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় তাবলিগের শুরা উপদেষ্টা, শুরা সদস্য ও ভারতে সফরকারী প্রতিনিধি দলসহ ২১ জনের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সবাই সাদের ঢাকায় আসার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এরপরও মাওলানা সাদ বাংলাদেশে আসায় তাবলিগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।’

বিরোধীরা বলছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে সাদের কিছু বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ শফীসহ বাংলাদেশের সিনিয়র আলেমরাও চান, বিশ্ব ইজতেমায় সংঘর্ষ এড়াতে সাদ ও তার অনুসারী বা বিরোধীরাও যেন ইজতেমায় অংশ না নেন। যদিও সাদের ঢাকা সফরের পক্ষে রয়েছেন তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, অধ্যাপক ইউনূস শিকদার ও মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

মাওলানা সাদ ইজতেমায় অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তার পক্ষের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম  বলেন, ‘এ বিষয়ে আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার বিষয়ে আলেমদের যে বক্তব্য তা আমরা শুনবো, এরপর দেখা যাবে তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন কিনা।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *