পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কাফেলার উপর হামলার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানি। এই হামলাকে ঘৃণ্য ও জঘন্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মাওলানা মাদানি মিডিয়ায় দেয়া তার এক এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন এটা সন্ত্রাসী, অমানবিক,ঘৃণিত ও কাপুরুষের মত কাজ হয়েছে যা কখনোই জেহাদ হতে পারে না।
হিন্দুস্তানের সমস্ত ন্যায়প্রিয় নাগরিক এই ভয়ানক ঘটনায় মৃতদের প্রতি অত্যন্ত দুঃখ, শ্রদ্বা নিবেদন এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি প্রচুর ঘৃণা প্রকাশ করছে। আমরা সবাই মৃত এবং শোকার্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কোন ভেদাভেদ ছাড়াই কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে আছি।
মাওলানা মাদানি বলেছেন, এই সন্ত্রাসী কাজে কাশ্মীরে শান্তি স্থাপনকে আরও সঙ্কটপূর্ণ করে তুলল। কিন্তু আমাদের কখনই নিরাশ হলে চলবে না। বরং শান্তি স্থাপন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই প্রতিটি স্তরে পুরো শক্তির সঙ্গে জারি রাখতে হবে।
কিছুদিন আগে ভারতের জওহর লাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে ‘ইসলামি আতঙ্কবাদ’ শিরানামের উপর চালু হতে যাওয়া কোর্সের চরম সমালোচনা করেছেন ভারতের শক্তিশালী দল জমিয়তে উলাময়ে হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানি।
এর প্রেক্ষিতে মাওলানা মাদানি- ভারতের শিক্ষামন্ত্রী, ইউনিভার্সিটির চ্যন্সেলর, প্রফেসর এইম জি কুমার এবং চ্যান্সেলর শ্রী, জী, কুমার স্বরস্বতী বরাবর চিঠি লিখে সতর্ক করে বলেন, আতঙ্কবাদিতাকে ইসলামের সঙ্গে মিলানো একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননা। যা কোনওভাবেই মেনে নেয়ার নয়।
তিনি তার চিঠিতে একাডেমীর আয়োজকদের হুঁশিয়ার করে বলেন, তারা যদি তাদের অবস্থান থেকে ফিরে না আসে, তাহলে জমিয়তে উলামা হিন্দ তাদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে।
আক্ষেপ করে মাওলানা মাদানী বলেন, সেকুলার মানসিকতা সম্পন্ন ইউনিভার্সিটি এতোটা নীচে নেমে কিভাবে জাতিগত বিভেদ পূজারীদের মাকসাদ পূর্ণ করেছে!
মাওলানা মাদানি আরও বলেন, যে কোনও জাতিকেই আতঙ্কবাদিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা নীতিগতভাবে অন্যায়। এটা এমনি একটি প্রান্তিকতা যে, ইসলামের মতো পূর্ণ নিরাপত্তাময় একটি ধর্ম যেখানে একজনকে হত্যা করা পুরো মানবজাতিকে হত্যার সমান বলা হয়েছে সে ধর্মকে আতঙ্কবাদিতার মতো নাপাক বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মাওলানা মাদানি প্রমাণ টেনে বলেন, আতঙ্কবাদিতার নামে পুরো বিশ্বে যুদ্ধ করা পরাশক্তিরাও ‘ইসলামি আতঙ্কবাদ’ পরিভাষা ব্যবহারের সাহস দেখায়নি। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাকা ওবামা এবং বর্তমানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সুস্পষ্টভাবে ‘ইসলামি আতঙ্কবাদ’ পরিভাষা ব্যবহারের বিষয়টি ‘ভুল’ বলেছেন। এবং তাদের ব্যখ্যা হলো: এ জাতীয় কথা আতঙ্কবাদিদের তাদের প্রোপাগাণ্ডাকে শুদ্ধ মনে করার প্রতিশব্দ। যারা নিজেদের এ কাজকে ‘মাযহাবী’ কাজ মনে করে।
তিনি বলেন, এসব ইতিহাস ও বৈশ্বিক বাস্তব বিষয়সূমহকে সামনে রেখেও তাদের ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের এ জাতীয় কর্মকাণ্ড দুনিয়ার ওই সব মুসলমানদের দুঃখ দিয়েছেন যারা নিরাপত্তাকামী এবং আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু ভারতেই আমাদের সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দ ছয় হাজার উলামায়ে কেরামের স্বাক্ষর নিয়ে আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে ফাতওয়া জারী করেছে এবং বিগত ১৫ বছর যাবৎ সমস্ত অশুভ শক্তির মোকাবেলা করে আসছে। আমরা সারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড় বড় কনফারেন্স করে এই সংবাদ পৌঁছ দিয়েছি যে, ইসলাম দেশদ্রোহিতাকে নির্মূল করা মাযহাব।
মাওলানা মাদানি বলেন, ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ভারতে বসবাসকারী ওইসব শান্তিপ্রিয় সব মুসলমানকে দুঃখ দিয়েছে যারা সব ধর্মকেই শ্রদ্ধা করে।
তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ ‘ন্যাশনাল সিক্রেট স্ট্যাডিজ সেন্টার’ এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য বিষয়ক কোর্সে ইউনিভার্সিটির অন্যকোন কার্যক্রম শুরু করার সঙ্গে দ্বিমত নয়। তবে, আতঙ্কবাদিতার বিরুদ্ধে যেকোনো অবস্থায় সাহায্য করতে প্রস্তুত।


