কাশ্মীর নিয়ে বিন সালমানকে কী জানালেন ইমরান খান

কাশ্মীর নিয়ে বিন সালমানকে কী জানালেন ইমরান খান

কাশ্মীর নিয়ে বিন সালমানকে কী জানালেন ইমরান খান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে ফোনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তার কাছে তুলে ধরেন।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিয়ো নিউজ জানিয়েছে, ভারত সরকার কর্তৃক একতরফাভাবে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং রাজ্য দুটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার বিষয়ে সৌদি যুবরাজকে অবহিত করেন ইমরান খান।

মোহাম্মাদ বিন সালমানের কাছে কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে।

তাছাড়া এমন সিদ্ধান্ত উপমহাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হবে।

তবে ইমরান খানকে সৌদি যুবরাজ কোনো বার্তা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জিয়ো নিউজ কোনো কিছু জানায়নি।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল এবং রাজ্য দুটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তাতে সমর্থন জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মঙ্গলবার ভারতে নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বরাতে এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. আহমেদ আল বান্না বলেন, রাজ্যের পুনর্গঠন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়।

আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে উন্নতির লক্ষ্যে মূলত এটি করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধানের ৩৫-ক ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মীরকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা বাতিল করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। এরপর মঙ্গলবার লোকসভায়ও বিলটি পাস করে নেয় বিজেপি সরকার।

রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হল। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল।
৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান এবং একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দিয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন জোট সোমবার ধারা দুটি বাতিলের যে বিল উত্থাপন করে তা পাস হওয়ায় কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *