কিরগিজস্তানে ৩৯ থেকে বেড়ে এখন ২৫০০ মসজিদ

কিরগিজস্তানে ৩৯ থেকে বেড়ে এখন ২৫০০ মসজিদ

পাথেয় রিপোর্ট : মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে বিরাজ করে জান্নাতী পরিবেশ। আর মসজিদের বাতিঘর বলা হয় কিরগিজস্তানকে। কিরগিজস্থান মধ্য এশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ। একটি জরিপ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর গড়ে ৯০টি করে মসজিদ নির্মাণ করে আসছে দেশটি। আর গত ২৮ বছর এ রেকর্ড ধরে রেখেছেন তারা।

এই হিসেবে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আজ অবধি মোট ২ হাজার পাঁচশ’ মসজিদ নির্মাণ করেছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে দেশটির ধর্মবিষয়ক কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্বাধীনতা লাভের পূর্বে দেশটিতে মাত্র ৩৯টি মসজিদ ছিল। এরপর মসজিদ নির্মাণের দিকে দৃষ্টি দেয় দেশটির সরকার। গত ২৮ বছরে আড়াই হাজারেরও বেশি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয় সেই বিবৃতিতে।

কিরগিজ ধর্মবিষয়ক কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের কমিশনে ৩ হাজার ২৩৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইসলামি সংস্থা ২ হাজার ৮২২টি, খ্রিস্টান সংস্থা ৩৯৭টি, বৌদ্ধ সংস্থা ১টি, ইয়াহুদি সংস্থা ১টি এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১২টি।

প্রসঙ্গত চীন, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান বেষ্টিত দেশ কিরগিস্তানে মোট জনসংখ্যা আনুমানি সাড়ে ৫৫ লাখ, যার সিংহভাগই ইসলাম ধর্মের অনুসারী।

উল্লেখ, কিরগিজস্তান মধ্য এশিয়ার পূর্বভাগের একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম কিরগিজ প্রজাতন্ত্র (Кыргыз Республикасы কে’রগে’জ রেস্পুব্লিকাসে)। এর উত্তরে কাজাখস্তান, পূর্বে গণচীন, দক্ষিণে গণচীন ও তাজিকিস্তান এবং পশ্চিমে উজবেকিস্তান। বিশকেক শহর দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

কিরগিজরা একটি মুসলিম তুর্কীয় জাতি যারা কিরগিজ নামের একটি তুর্কীয় ভাষাতে কথা বলে। এরা কিরগিজিস্তানের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ গঠন করেছে। উজবেক ও রুশ জাতির লোকেরা এখানকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ১৯শ শতকের শেষের দিকে কিরগিজিস্তান রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। ১৯২৪ সালে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পায়। ১৯৩৬ সালে এটিকে একটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি তখন কিরগিজিয়া নামেও পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯৩ সালে নতুন সংবিধান পাস করে।

কিরগিজিস্তানের রাজনীতি একটি অর্ধ-রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *