পাথেয় রিপোর্ট : নিয়তের উপর ভিত্তি করেই মুসলমানরা তাদের আমলের ফলাফল পাবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জামিয়া তাইয়িবার মুহতামিম মাওলানা ইয়াকুব বুলন্দশরহী।
ভারতে প্রসিদ্ধ দ্বীনি মাদ্রাসা মাআরিফুল কুরআনের মসজিদে তাওকায়ায় কোরবানি বিষয়ক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
৩০ জুলাই ২০১৮ সোমবার দিল্লীর দৈনিক আখবারে মাশরিকে প্রকাশিত খবরে মাওলানা ইয়াকুব বলেন, আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে দুইটি আনন্দের দিন দান করছেন, একটি ঈদুল ফিতর, আরেকটি ঈদুল আজহা। আর ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম বড় ইবাদত কুরবানি। কুরবানি করার দ্বারা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। আমরা অনেকেই কুরবানি করি, কিন্তু আমাদের নিয়ত সহিহ না থাকার কারণে আল্লাহর কাছে আমাদের কুরবানি কবুল হয় না। বান্দার সব আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলার বান্দার নিয়তের উপর ভিত্তি করে দিয়ে থাকেন।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর কুরবানির পশু জবাই করলো তার কুরবানি পরিপূর্ণ হলো, আর সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করলো
মাওলানা বুলন্দশহরী বলেন, কুরবানি ইসলামে বড় একটি ইবাদত। কুরবানি কুরআন, হাদীস ও মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন শরীফে এসেছে- ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কুরবানি করো।’ আর হাদীস শরীফে আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর কুরবানির পশু জবাই করলো তার কুরবানি পরিপূর্ণ হলো, আর সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করলো।
তিনি আরো বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী যদি কুরবানির দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ মালের মালিক থাকে, তাহলে তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে ঈদগাহে আসতে নিষেধ করেছেন, যার উপর কুরবানি ওয়াজিব কিন্তু সে কুরবানি করল না। তাই আমাদের সকলের উচিত সামর্থ্য থাকলে কুরবানি আদায় করা।
মাওলানা ইয়াকুব বলেন, ইসলাম ধর্মের সবকিছুই একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যে। কোন কিছুই মানুষকে দেখানোর জন্যে নয়। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক নিয়তে, সহীহ ভাবে কুরবানি করার তাওফিক দারুন।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : দৈনিক আখবারে মাশরিক, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


