কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বিএনপির তৃণমূল

কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বিএনপির তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুত বিএনপির তৃণমূল। অপেক্ষা কেবল কেন্দ্রের নির্দেশনার। দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্তই দেওয়া হোক, তা মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের জন্য মানসিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি রয়েছে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের। কোন ইস্যুকে সামনে রেখে সক্রিয় হতে হবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রের ওপর।

গত মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, খালেদা জিয়া মুক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা চালিয়ে যাছেন। ইতোমধ্যে অন্যান্য দলের আগ্রহী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করায় বিএনপির আগ্রহী প্রার্থীরাও প্রচারণা করছেন সাধ্যমতো। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে বলে তাদের বিশ্বাস। তবে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটিকেই এগিয়ে রাখছে তৃণমূল।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া জেলে থাকায় দল পরিচালিত হছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে। আর এই কার্যক্রম সমন্বয় করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তৃণমূল নেতারা বলছেন, দলের এই সমন্বিত পরিচালনা নীতিতে শতভাগ বিশ্বাস ও ভরসা তাদের আছে। নির্বাচনি কর্মকা- প্রাধান্য পাবে নাকি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন তরান্বিত করতে হবে, এ বিষয়ে কেন্দ্রের কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই চলবে তৃণমূল।

ফেনী জেলা বিএনপি সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। প্রার্থীরাও সেই অনুযায়ী কাজ করে যাছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফেনীতে সব আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করবে। কিš নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রের ওপর। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, তা আমরা মেনে নেবো। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করি বেগম খালেদা জিয়া খুব দ্রুত মুক্তি পাবেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীতে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করছি। তবে পুলিশ বাধা দিছে। ফেনীতে প্রশাসন চায় না কোনও আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠুক। তবে আমরা সাধ্যমতো আন্দোলন করে যাছি।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘গত ১২ বছর ধরে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিছি। এখন কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমরা ৩১ মার্চের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করে যাছি। এখন প্রশাসনের অনুমতি পেলেই চলে।

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘জেলা বিএনপি সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের দলের প্রার্থীরা বিজয় হবে এ জেলায়। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে আছেন। তার মুক্তির ওপর নির্ভর করছে আমাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বলছেন, তারা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে এই মুহূর্তে বিএনপির ভাবনা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালাতে হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী জুনের আগে কর্মসূচিতে নতুন কোনও পরিবর্তন আসবে না। এখন পর্যন্ত দলের নীতিনির্ধারকরা এই সময়সীমা মেনে সিদ্ধান্ত নিছেন। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচির ধরনের পরিবর্তন এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করেন দু-একজন নেতা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখন আমাদের সব ধরনের কর্মকা- চলছে দেশনেত্রীর মুক্তিকে কেন্দ্র করে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছে, এভাবেই চলবে। তবে নির্বাচনের জন্য সবসময় আমরা প্রস্তুত আছি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি।

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবো। আগে দেশনেত্রীর মুক্তি, তারপর নির্বাচন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *