কেন চলে ওয়াযাহাত?
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ওযাহাতের পরে আরেক ওযাহাত। হাজার হাজার জনতার সামনে একজন ওযাহাত করলে ওদিকে আরেকজন অনলাইনে ওযাহাত করলেন। আবার তিনার ওযাহাত এর জবাব সুসজ্জিত হয়ে দিন তারিখ দিয়ে অনলাইনে এসে ওযাহাত দিলেন।
এখন আবার শুনছি, যিনি সুসজ্জিত হয়ে ওযাহাত করেছেন, ওনার বিরুদ্ধে আবার আরেক ওযাহাত নিয়ে আসছেন।
মোটামুটি আমাদের ছারে তাজ মুরুব্বীদের ওপেন ঠেলাঠেলি দেখছি আমরা সাধারণ মানুষগুলো। এর পর পর আবার উনি কি ওযাহাত করেন আল্লাহ মালুম। তাহলে এর শেষ কোথায়? এটা কি চলতেই থাকবে? আমাদের দেশে কি আর কেউ নেই এসব মুরুব্বীদের নিবৃত করার জন্য।
বড় আফসোস হয়, কষ্টে বুকটা ভেঙে আসে। কার কাছে গিয়ে বলব এসব কথা। আর এভাবেই চলছে আমাদের মুরব্বীদের সিষ্টেম। আচ্ছা, এই গলাকাটা বক্তা থেকে নিয়ে আর যত বিষয়গুলো সরাসরি ওযাহাত হলো, এগুলো কি কোন ঘরোয়া বৈঠকে সমাধান করা যেত না? ভরপুর মজলিসে কেন করা হলো এগুলো?
এখন সারা দেশের মানুষের মাঝে আলেম- উলামাদের হেয় হতে হচ্ছে। আলেমদের প্রতি মানুষের যে ভক্তি শ্রদ্ধা ছিল, সেটার প্রতি কালিমা লেপন করা হল। আজ কয়েক বছর ধরে শুনছি এই ওযাহাতি শব্দ। কিছু হলেই একজন অনলাইনে চলে আসেন ওযাহাত করতে। আবার আরেকজন পাল্টা ওযাহাত করতে চলে আসেন।এভাবেই চলছে একের পর এক।
আমার জানামতে ‘ওযাহাত’ শব্দটার বয়স বেশী দিন নয়। তবে অল্প বয়েসে একদম পেঁকে গেছে শব্দটা। এই যে কয়েকবছর আগে রাজধানী ঢাকার বড় বড় জায়গায় “ওযাহাত” শব্দ এর জন্ম হয়েছিল। সেই অবধি আমরা হাতে কলমে শিখে ফেলেছি কিভাবে ওযাহাত করতে হয়।
তখন যে ওযাহাত হয়েছিল, সেটাও কিন্তু লজ্জাস্কর ছিল। কিন্তু কে কার কথা মানে। ওপেন ফিল্ডে ওযাহাতের আছর দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ওযাহাতকে কেন্দ্র করে রক্তারক্তিও হয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু কোন ফায়দা হয়নি আজো।
বরং এই তরিকায় ওযাহাত না করে আপোসে মিল- মহব্বতের সাথে চলার রাস্তা বোধ হয় বের করা যেত। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে ওযাহাতের দিকে গেলাম। আফসোস!
বর্তমানে আগের সেই ওযাহাতের রেশ চলছে। আমরা আগেই ট্রেনিং প্রাপ্ত। কেমনে ওযাহাত করতে হয় সেটা তো জানা আছে। তাই এখন সেটা নিজেদের মধ্যে প্রয়োগ করছি।
এ দুঃখব রাখিব কোথায়? আমরা জাতির রাহবার। দেশের শীর্ষ আলেম উনারা। কিন্তু উনারাই একে অপরের পরনের কাপড় ধরে টানাটানি করছেন।
এটা তো আমাদের জানা। একে অপরের কাপড় টানাটানি করলে উভয়কেই দিগম্বর হতে হয়। আর হচ্ছেও তাই।
আগে তো ওযাহাত করতাম অপরকে বাতিলের ট্যাগ লাগিয়ে। এখন এটা কিসের ওযাহাত? এখানে তো আমরা উভয়েই হকের দাবিদার। আহ, বড় আফসোস! যে অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে আমাদের কঁচু গাছে গলা ঝোলানো ছাড়া উপায় নেই! যদিও শুনতে খারাপ শোনা যায়। আল্লাহ তুমি আমাদের মুরুব্বিদের সুমতি দান কর। আপোসে মহব্বত বৃদ্ধি কর। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


