কোন দিকে যাচ্ছে আমাদের যুব সমাজ!
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কোন দিকে যাচ্ছে আমাদের যুব সমাজ? কোথায় পা বাড়িয়েছে তারা? আমার মনে হয়, সব চেয়ে বেশী মিস গাইড হয় আমাদের কওমীর সন্তানেরা। বেশী ব্যবহৃত হয় এই কওমীর যুব সমাজ। এরা যে রকম তাড়াতাড়ি হুজুগী হয়, এরকম আর কোথাও দেখা যায় না।
এক সময় দেখেছি, রাজপথে কওমীর সন্তানদের ব্যবহার হতে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের ডাকে আমরাই সাড়া দিতাম। যত ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম আমাদের এই দেশে হয়েছে, সকল আন্দোলনে এই কওমীর সন্তানেরা ছিল প্রধান হাতিয়ার।
ইসলামী অঙ্গনে যত রাজনৈতিক দলের আবিস্কার হয়েছে,সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান ভুমিকায় এসব তরুনেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাছাড়া মৌসুমী রাজনীতি বলেন , আর হঠাৎ রাজনীতি, সকলটায় ঢাল হিসেবে ভুমিকায় ছিল, আমাদের কওমীর যুবকেরা।
বিগত ২০১৩ সনে যে আন্দোলন গুলো হয়েছিল, নাস্তিক মুরতাদ এর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক শাপলার আন্দোলন। এসব জায়গায় আমাদের যুবকদের ভুমিকাই বেশী ছিল। তাদের মেহনত আর কোরবানীর বদৌলতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম তুঙ্গে উঠে ছিল। তারাই এই জাতিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের যুবকেরা যখন আন্দোলন সংগ্রামকে চাঙা করে একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছে।তখনই শুরু হয়েছে, অদৃশ্যের কালো থাবা। যে কালো থাবায় আর আন্দোলন সফলতার মুখ দেখতে পারেনি। বরং এ কথা বলা যায়, আম আর দুধ এক জায়গায় হয়েছে, আঁটি নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
আন্দোলন সংগ্রামের যারাই নেতৃত্ব দিয়ছে, তারা উপর মহলের সাথে যোগাযোগ করে মাঝ পথে আন্দোলনকে ব্রেক দিয়েছেন। ওরা হিসেব নিকেশের পালা শেষ করেছেন, মাঝ খানে নিরীহ যুবকেরা শুধু ব্যবহার হয়েছে।
বেশী দুরে যেতে হবেনা, এই শাপলার আন্দোলন সংগ্রামের কথা মনে আছে সবার। কি নাটকটা না হল। যারা তেজস্বী বক্তৃতায় মাঠে খই ফোটাচ্ছিল, তাদের চরিত্রটা এজাতি স্বচক্ষে দেখেছে।
বর্তমান সময়ে আমাদের যুবকেরা ব্যবহার হচ্ছে অনলাইনে। কওমী মাদ্রাসার তরুণেরা এখন তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে অনেক খানি। কিন্তু কি হবে? এসব সহজ সরল ছাত্ররা ব্যবহার হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। কারণ, ঐ গোমরাহ ফেরকার কুটিল ষড়যন্ত্রের কাছে, নাস্তানাবুদ হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। তাছাড়া ওরাতো মুখোশ পরে আছে। কখনো হকের লেবাস পরে আমাদের সন্তানদের সাথে মিশে যাচ্ছে। আমাদের যুবক ভাইয়েরা কিছু বুঝে উঠতে পারছেনা।
ঐ গোমরাহ ফেরকার মুখোশ ধারীরা একেক সময় একেক ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে রাখে। আর ঐ ফাঁদে পা দেয় আমাদের যুব সমাজ। একদম হুজুগে গা ভাসিয়ে দেয় তারা।
বিশেষ করে ঐ গোমরা ফেরকার মুখোশ ধারীরা আলেম সমাজ, উলামায়ে দেওবন্দ ওদের টার্গেট। ওরা কোন আলেমকে ছাড় দেয় না। এদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা আহমাদ শফিকে পর্যন্ত হেস্তন্যন্ত করেছে।
বিভিন্ন সময়ে ওরা একটা গুজব ছেড়ে দেয়, আর আমাদের সন্তানেরা তাহকিক ছাড়াই সেদিকে ঝুকে পড়ে। একটু খেয়াল করে দেখেনা আসলে বিষয়টা কি।
এই যে বর্তমানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে নিয়ে যে নিউজটা ভাইরাল হয়েছে, এটাতো ওদেরই ষড়যন্ত্র। আর এটাতে পা দিয়েছে আমাদের কওমীর সন্তানেরা।
আল্লামা মাসঊদ একজন ইসলামী স্কলার। বিশ্বব্যাপী তাঁর একটা পরিচিতি রয়েছে। তাঁকে বিভিন্ন দেশ থেকে আহ্বান করে বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের জন্য। বিভিন্ন সেমিনারে তাঁকে যেতে হয়।
সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক যে সংগঠনটির প্রোগ্রামে আল্লামা মাসঊদ গিয়েছিলেন, সেখানে তো তিনি একজন ইসলামী স্কলার হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন, তিনি তো সে কমিটির কিছু নন। তিনি একজন অতিথি ছিলেন। সেখানে সব ধর্মের লোকজন ছিল। ইসলাম ধর্মের একজন স্কলার হিসেবে তিনি গিয়েছেন। আমি তো বলবো, বরং আল্লামা মাসউদ এজন্য গিয়েছিলেন, আমাদের এই দেশ সম্প্রীতির দেশ। সেটা প্রমাণ করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
আর আল্লামা মাসঊদ এই প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন মে মাসের তিন তারিখে।
কিন্তু এদিকে সস্প্রীতি বাংলাদেশ এর ১২ তারিখে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেন তারা, ঐ ১২ তারিখে আল্লামা মাসউদ কিন্তু তাদের কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।যেটার মধ্যে জঙ্গিবাদের কিছু আলামাত (যেটা ইসলাম বিরোধী) উল্লেখ করে জাতীয় গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে সংগঠনের প্রধান পীযুষ বন্দোপাধ্যায়।
এদিকে ষড়যন্ত্রকারীরা তো আর বসে নেই। ওরা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের তিন তারিখের ছবি কাটিং করে, ১২ তারিখে যে ইসলাম বিরোধী বক্তব্য পীযুষ সাহেব দিয়েছেন, সেটার সাথে ওরা মিলিয়ে দিয়ে বলছে, দেখ, দেখ, পীযুষ ইসলাম বিরোধী বক্তব্য দেয়, আর আল্লামা মাসঊদ পাশে বোবার মত বসে থাকে, সে কোন প্রতিবাদ করে না!
ব্যস, শুধু এতটুকু ওরা করেছে। বাকিটা আমাদের যুবক ভাইয়েরা সেটা কোথায় নিয়েছেন, আপনারা সব জানেন। কত গালি যে আল্লামা মাসঊদ খেল,সেটাও আমরা দেখলাম।
এভাবে আমাদের যুব সমাজ মিস গাইড হচ্ছে বারবার। সঠিক রাস্তায় যেতে পারছে না। ব্যবহার হচ্ছে সবসময়। যেটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।
লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক


