অভিমত । আমীনুল ইসলাম কাসেমী
কোরআনপ্রেমী একজন প্রধানমন্ত্রী
অনেক অনেক শুভেচ্ছা-অভিনন্দন, ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা জানাই আপনাকে। পবিত্র কুরআনুল কারীম-এর প্রতি আপনার অকৃত্রিম ভালবাসা, মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি দরদ-ব্যথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেননা, কোরআন শিক্ষার প্রতি আপনি যে মহানুভবতা দেখিয়ে চলেছেন, তার প্রতিদান মহান আল্লাহতা’য়ার নিকট অবশ্যই রয়েছে। নিঃসন্দেহে মহান পরওয়ারদেগার এই মহৎ-কাজের জন্য দুনিয়া আখেরাতে কামিয়াবী দান করবেন।
আপনি একজন কোরআনপ্রেমী। কোরআনের প্রতি আপনার প্রাণখোলা ভালবাসা। আপনি নিজে নিয়মিত কোরআন পড়েন। অন্যকে উৎসাহিত করেন। বর্তমানে সবচেয়ে যে জিনিস আলেমসমাজের কাছে বেশী ভালো লেগেছে, সেটা হল, কওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগগুলো খুলে দেওয়া। এর দ্বারা বুঝা যায়, আপনি কোরআনপ্রেমী। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি আজো হয় নি। স্বাভাবিকভাবেই ধরতে হয়, পরিস্থিতির কারণে দেশের ছাত্রসমাজের লেখাপড়ায় দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু এই করোনাভাইরাসের মহামারীকালে কেউ কোন প্রতিষ্ঠান খোলার সাহস পাচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীদের একবারে ছেড়ে দিতেও রাজী নয় সরকার। কারণ এই লাখ লাখ শিক্ষার্থী হুট করে বাইরে ছেড়ে দেওয়া মানে তাদের একপ্রকার বড়ধরনের ঝুঁকিতে ফেলা।
তবে আপনার উদারতা এবং কোরআনের প্রতি সীমাহীন ভালবাসার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরআনী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার অনুমতি দিলেন। আলেমসমাজের প্রত্যাশাও ছিল এমনটিই। আরো শুনতে পাচ্ছি, অচিরেই কওমী মাদ্রাসার অন্যান্য শাখাগুলো খুলে দিবেন। যাতে কোরআন-হাদীস চর্চা যেন বন্ধ না হয়। এ দেশে যেন কোরআনের তেলাওয়াত ও চর্চা চলতে থাকে। কোনদিন বন্ধ না হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার এই কোরআনপ্রীতি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের দ্বীনদার মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে হাজার বছর। মহান আল্লাহর নিকট এই নেক কাজের বিনিময়ে আপনার দুনিয়া আখেরাত উজ্জ্বল হবে ইনশা-আল্লাহ।
আপনার এই মহানুভবতায় স্মরণ হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর কথা। যিনি স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোর বেহালদশা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছিলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরে সব মাদ্রাসাগুলো বন্ধ ছিল। দেওবন্দ থেকে ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহঃ) এলেন, যিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ছিলেন। তিনি সঙ্গে নিলেন আল্লামা কাজী মু’তাসীম বিল্লাহ (রহঃ) এবং আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাস্ঊদ সাহেব (দাঃবাঃ)-কে। সরাসরি বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে অনুরোধ জানালেন মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধু আলেমগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের সকল মাদ্রাসা খোলার অনুমতি দিলেন।
আজকের এই ক্রান্তিকালে মনে হয় বঙ্গবন্ধুর কথা। তাঁর অবদান দ্বীনী শিক্ষার প্রতি, দ্বীন ইসলামের প্রতি অগণিত। দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন থেকে নিয়ে বহু অবদান। ঠিক আপনিও মহৎ-প্রাণ পিতার অনুসারী। যেভাবে ইসলামী শিক্ষার প্রতি আপনি অবদান রেখে যাচ্ছেন, ওলামা-মাশায়েখগণের দুআ-ভালবাসায় সিক্ত হবেন চিরদিন।
আজ কওমী মাদ্রাসাকে আপনি মূল্যায়ন করেছেন। কত সরকার এল আর গেল। কারো নেক নজর পাই নি আমরা। কেউ আমাদের মূল্যায়ন করে নি। কিন্তু আপনি কওমী সনদের স্বীকৃতি দিলেন। শত বাঁধার মুখে আপনার দৃঢ়তা দেখেছি। আপনার মেহনত-মোজাহাদায় কওমী মাদ্রাসাগুলো যেন এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গতিবেগ বেড়েছে তাঁদের। সবই আপনার নেক দৃষ্টি।
যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকরী এক পদক্ষেপ। বিশ্বব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সব বন্ধ। প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতার প্রশংসা করতেই হয়। তিনি হাজারো ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
আমি অবাক হই আমাদের কওমী বন্ধুদের প্রতি। বিশেষ করে যারা অনলাইনে এ্যাক্টিভ থাকেন। এতবড় একটা কাজ তিনি করলেন, অথচ বন্ধুরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন না? ইতিবাচক কোনো পোষ্টও চোখে পড়ল না !
নিজ দেশের মানুষ বলে কথা ! এটা যদি তুরস্কের এরদেগান বা পাকিস্তানের ইমরান খান করত, তাহলে তো ফেসবুকটা ভরে যেত শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে ! মানে কথায় আছে, “পীর চিনে না মায়, পীর চিনে না গায়।” বিদেশপ্রেম বাদ দিতে হবে। দেশপ্রেম চাই দেশের মহারথীদের ভালবাসুন। ভালোকে ভালো বলুন।
আজ হয়তো, অনেকে অনেক কিছু বলবেন। কিন্তু সত্য কথাগুলো লিখলাম। মনের কথাগুলো শেয়ার করলাম।
পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের জন্য দুআ কামনা। আল্লাহ্ সকলের উপর রহম করুন। আমীন।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


