ক্রাইস্টচার্চে নিহত মোয়াজ্জিন কুড়িগ্রামের আব্দুস সামাদ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কুড়িগ্রামের আবদুস সামাদ ছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদের মোয়াজ্জিন। তিনিও বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। নিজের পরিবার নিয়েই নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের অ্যাগলি পার্কে আবদুস সামাদ বসবাস করতেন।
নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের আব্দুস সামাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাপশি একটি মসজিদে মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামে। তার দুই ভাই এ গ্রামে থকেন।
ছোট ভাই হাফেজ হাবিবুর রহমান বলেন, “ভাই নিউ জিল্যান্ডের লিংকন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া তিনি ডিন্স এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদের মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।”
সামাদ ২০১৩ সাল থেকে সপরিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের অ্যাগলি পার্কে বসবাস করছিলেন বলে তিনি জানান।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউ জিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হন; আহত হন আরও ৪৮ জন।
তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আরও চার বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর রয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, “বড় ভাই আসাদ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আরও এক ভাই সন্ত্রাসীদের হাতে মারা পড়লেন।”
সামাদের স্ত্রী কিশোয়ারা বেগমও মারা গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও এ বিষয়ে হাবিবুর নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
হাবিবুর বলেন, সামাদের দুই ছেলে নিউ জিল্যান্ডে থাকেন। বড় ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।
তিনি সামাদের মরদেহ অবিলম্বে দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিকালে নাগেশ্বরী বাজারে ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ইসলামবিদ্বেষ বর্ণবাদের সর্বশেষ নজির হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার সহায়তা প্রয়োজন।-খবর গার্ডিয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এ হামলার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের হতাহত নাগরিকদের গভীল শোক জানিয়েছেন।
ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বৃদ্ধির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ঘটনাকে দাঁড় করিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের এ নেতা।
ক্রাইস্টচার্চের হামলাকে সুপরিকল্পিত বললেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত। হামলাকারীর গাড়িতে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইস যুক্ত করা ছিল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নেয়া হয়েছে।


