‘খুনি মোদীকে বাংলাদেশের পবিত্র ভূমিতে আসতে দেওয়া যাবে না’

‘খুনি মোদীকে বাংলাদেশের পবিত্র ভূমিতে আসতে দেওয়া যাবে না’

১৩ মার্চ সারাদেশে থানায় থানায় বিক্ষোভ ও নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘মুসলিম নির্যাতন, মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও মুসলিমগণ হত্যাকারী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের পবিত্র ভূমিতে আসতে দেওয়া যাবে না। তিনি আগামী ১৩ মার্চ শুক্রবার সারাদেশে প্রতিটি মসজিদে ভারতে নিহত ও নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া এবং খুনি মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে দেশব্যাপী থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।’

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা জেলা শাখা সভাপতি আলহাজ সৈয়দ আলী মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, যুবনেতা মাওলানা নেছার উদ্দিন, ঢাকা জেলা সেক্রেটারী আলহাজ¦ শাহাদাত হোসাইন, ডা: মো: কামরুজ্জামান, মুহাম্মদ হাসমত আলী, মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর নাইটেংগেল পৌঁছলে পুলিশ বাঁধা দিলে সেখানেই মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন দলের নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশের মালিক নন। মনে চাইলে যা ইচ্ছে তাই করবেন। জনতার তীব্র স্রোত দেখেন। সবেমাত্র এক নম্বর সংকেত দেয়া হলো। দেশের জনতা প্রয়োজনে ১৩ নম্বর সঙ্কেত দেখাবে। তবুও খুনি মোদীকে এদেশে বরদাশত করবে না।’

তিনি বলেন, ‘মোদীর যে হাতের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি, সে হাতকে ফুল দিয়ে বরণ করা যাবে না। মোদীর যে অপবিত্র পায়ে মুসলমানদের রক্তের ছাপ এখনও বিদ্যমান, তাকে মুসলমানদের এই পবিত্র ভূমিতে লালগালিচা দিয়ে অভ্যর্থনা করতে দেয়া হবে না। মোদিকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় বিচার করতে হবে এবং নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্থ মুসলমানদের যথাযথ ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। ঘজঈ এর নামে ভারতে মুসলিম হত্যা, মুসলিম নিধন এবং মুসলমানদের বিতাড়নের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, আপনি যদি মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে অবিলম্বে মোদির আমন্ত্রণ বাতিল করুন। সাথে সাথে ভারতে মুসলিম হত্যা,নির্যাতন ওপবিত্র মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধ করার আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করুন। অন্যথায় বাংলাদেশের মুসলিম জনতা এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এমন আন্দোলন গড়ে তুলবে যার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানান ইউনুছ আহমাদ বলেন, ভারতবর্ষ দীর্ঘ ৮শত বছর পর্যন্ত মুসলমানরা শাসন করেছিল। মুসলামনরা ইচ্ছা করলে ভারতবর্ষকে হিন্দুমুক্ত করতে পারতেন, কিন্তু তারা তা করেননি। যদি ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী মুসলিম নিধন থেকে ফিরে না আসে তাহলে বিশ্বমুসিলম ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হতে বাধ্য হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *