খেজুর গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

খেজুর গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শীতের মৌসুম শুরু হলেও শীতের আগমন এখনো পরিপূর্ণ ভাবে হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার গ্রাম গঞ্জের খেজুর গাছিরা (চাষি)। রস সংগ্রহের প্রথম ধাপে এখন তারা গাছগুলো প্রস্তুত করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন।

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে কদর বেড়ে যায় খেজুর রসের। গাছ থেকে রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি, আর রস ও গুড়ের নানা শীতকালীন পিঠা তৈরির ধুম পড়ে আবহমান গ্রাম বাংলায়। সারাবছর অবহেলিত খেজুর গাছগুলোকে ঝুড়ে (পরিষ্কার) নতুন রূপ দেন গাছিরা।

চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫ বছর বয়সী কালাম হোসেন রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন। ব্যস্ততার মধ্যে কিছুক্ষণ কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘শীত শুরুর আগেই আমরা নিজের ও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে খেজুরের গাছ লিজ নিয়ে থাকি, এবারো নিয়েছি। রস সংগ্রহের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গাছ ঝোড়ার কাজ শেষ করেছি। ইতোমধ্যে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। এ বছর শীত একটু দেরিতে পড়ায় দেরিতেই রস সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, খেজুরের গুড় এই এলাকার একটি ঐতিহ্য। রস থেকে গুড় তৈরি একটি শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে চাটমোহর উপজেলার কয়েকশ’ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। শীত এলেই চাটমোহরের প্রায় প্রতিটি পরিবারকে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতে দেখা যেত। আগের দিনে নতুন খেজুরের গুড় আর নতুন ধানের চাল দিয়ে শুরু হতো নবান্ন উৎসব। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এবং খেজুর গুড়ের নামে ভেজাল গুড় তৈরি হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি হারাতে বসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা লাভের আশায় তৈরি করছে ভেজাল খেজুরের গুড়। তবে ভেজাল প্রতিরোধ ও গুড় শিল্প রক্ষায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খেজুরের গুড় পুনরায় ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *