হ্যালো ইমাম সাহেব | মুহাম্মাদ আইয়ুব

হ্যালো ইমাম সাহেব | মুহাম্মাদ আইয়ুব

হ্যালো ইমাম সাহেব | মুহাম্মাদ আইয়ুব

ছোটখাট একটা ভূমিকা দিয়ে আজকের লেখাটা শুরু করা যাক। একবার চীনের একটা মুবাল্লিগ প্রতিনিধি দল হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব (নাওয়ারাল্লাহু মারক্বদাহু) এর কাছে এসে আরজ করলেন, আমাদের দেশের মহিলারা মুখ ঢেকে চলতে অভ্যস্থ না, সুতরাং আপনি যদি অনুমতি দিতেন তাহলে তারা মুখ অনাবৃত করে দাওয়াতের কাজ করত। হযরতজি তাদের এ প্রস্তাব এ বলে নাকচ করে দিলেন যে, ‘দ্বীনি কাজ বদদ্বীনি তরিকায় চলতে পারে না।’

এবার আসি মূল আলোচনায়। আল্লাহ পাক আমাকে একটি মাদ্রাসা পরিচালনার পাশাপাশি মসজিদের খেদমতেও নিয়োজিত থাকার সৌভাগ্য দান করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। আর এদেশের মসজিদের সাথে মক্তব তো একদম ফ্রী। প্রথমদিন সকালে মক্তব করাতে যেয়ে আমার চক্ষু তো ছানাবড়া। উঠতি বয়সের একদল মেয়ে দলবেঁধে কুরআনের আলোকছটা গায়ে মাখতে এসেছে এবং এরা নাকি সব কান্ডারীর নৌকাতেই উঠে এসেছে। কিন্তু আমি প্রথম দিনই তাদের এ পথে বাধ সাধলাম। জোর গলায় কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করলাম আগামীকাল থেকে অনূর্ধ্ব ৮ বছরের মেয়েরা শুধু পড়তে আসবে। বাকীরা নো এন্ট্রি।

হঠাৎ করা এ আইন হিতে বিপরীত হল। এলাকাবাসী একযোগে ক্ষেপে উঠল। তাইলে কি আমরা আমাগে মায়িগে কুরআন ফড়াব না? হুজুররাই তো কুরআন শিহেতি কয় আবার এন্নে তারাই মক্তবে যাতি মানা অরে? কত্তবড় সাহস আমার মায়িরে মানা অরে? এই হুজুররে মসসিদে কিডা আনছে? এমন হুজুররে আমাগে মসসিদে রাহা যাবে না! ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি আমার মতের উপর অটল থেকে ভাবলাম এই অজপাড়াগাঁয়ে দ্বীন সম্পর্কে অশিক্ষিত, অবুঝ অভিভাবকদের সামনে আমাকে কৌশলে এগোতে হবে। বেশ কয়েকদিন মেয়েদের মক্তবে আসা বন্ধ থাকলেও একজন দুইজন করে আসতে আসতে আবারও বার চৌদ্দ বছরের মেয়েরা আসা শুরু করে দিল। আমি আবারও নিষেধ করলাম। এভাবে তৃতীয় পর্যায়ে যেয়ে এহেন পটিস্থিতে থেকে উত্তোরণ ও সুন্দর একটা সমাধানের জন্য দীনিয়াত বাংলাদেশের প্রধান মুফতী সালমান সাহেবের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস পাঠালাম। কারণ তিনি ও তাঁর টিম দীনিয়াতের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে মক্তব শিক্ষার উপর গবেষণা, আলোচনা পর্যালোচনা করছেন তাই নিঃসন্দেহে তাঁর কাছে এর একটা সমাধান থাকবে। তিনি আমাকে ফিরতি ভয়েস পাঠালেন। যার ভাষা ছিল হুবহু এমন….

আসসালামু আলাইকুম। এক নম্বর বিষয় মনে রাখতে হবে, দ্বীনের খেদমত দ্বীনের উসুলের ভিতর থেকে করতে হবে। দ্বীনি খেদমত যখন দ্বীনি উসুলের ভিতর থেকে হবে তখন সেটা দ্বীন হবে অন্যথায় দ্বীন হবে না। এখন এলাকার লোক কি বলল না বলল এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার ঈমানের হেফাজত। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ওদের দ্বীন শেখার চেয়ে আপনার ঈমানের হেফাজত অতীব জরূরী। এবং পর্দার মত ফরজ পরিত্যাগ করে এটা করা আবশ্যক নয় বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

যেমন- এক. আপনার আহলিয়া যদি পড়াতে পারে। দুই. পর্দার আড়াল থেকে পড়াতে পারেন। তিন. মাদ্রাসার ছোট বাচ্চা যদি থাকে সে ভিতরে মশক করাবে আর আপনি বাহির থেকে মশক করাবেন। তারপরও কোনভাবে এদেরকে বেপর্দায় পড়ানো যাবে না।

মনে রাখবেন! খেলাফে শরীয়ত হলেই সেখানে বিপদ আসবে। কোনভাবেই বড় মেয়েদেরকে এভাবে সামনাসামনি পড়ানো যাবে না। আর যদি মেয়েরে অনেকগুলো হয় তাহলে ওদের আলাদা গ্রুপ করে পর্দার ভিতর পড়ান। আলহামদুলিল্লাহ মুফতী সালমান সাহেব আমাকে নতুন দিগন্তের সন্ধান দিলেন। আমি তাঁর প্রস্তাবিত পরামর্শের দুই নম্বরটি গ্রহণ করেছি।

এতে দুচারজন ঘাউড়া মহিলা ছাড়া সচেতন অভিভাবক ও মসজিদের মুসল্লীরা খুব খুশি হয়েছে আর আমার বুক থেকে নেমে গেছে বিরাট এক পাথরের পাহাড়।

লেখক : খতিব, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *