গাছে গাছে ভরপুর টসটসে রসালো লিচু

গাছে গাছে ভরপুর টসটসে রসালো লিচু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : বাজারে বাড়ছে চাহিদা। বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে টসটসে লিচু। বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরাও। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গতবারের চেয়ে এবার লাভ হতে পারে বেশি। লিচুর এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পঞ্চগড় জেলায়।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে লিচুর বাগান রয়েছে। এগুলো সুস্বাদু, রসালো ও উন্নতমানের। আর এ কারণে এই লিচুর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। জেলার সাতখামার, চন্দনবাড়ি, সাকোয়া, মাড়েয়া, ময়দানদিঘী, বড়শশী কালিয়াগঞ্জ, ঝলইশালশিরি, পাঁচপীরসহ আশপাশের গ্রামে দেশের উৎকৃষ্টমানের লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রায়ই বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ও আশপাশের জমিতে লিচুর গাছ রোপণ করে থাকেন বাগানপ্রেমীরা।

জেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, পঞ্চগড়ে প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় দেড় হাজার লিচুর বাগান রয়েছে। বেদানা, চায়না-থ্রি, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-টু ও কাঁঠালি জাতের লিচুর ফলন ভালো হয় এ অঞ্চলে। এ বছর জেলার ১২৭ হেক্টর জমিতে ও বাড়ির আঙিনায় বাণিজ্যিভাবে চায়না-থ্রি জাতের লিচু চাষ করা হয়েছে। এই লিচুর ভালো কদর রয়েছে বাজারে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের কান্তমনি গ্রামের লুৎফর ও মন্ডলহাট গ্রামের আনিছুর রহমান প্রায় দেড় একর করে জমিতে লিচু চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের লিচু বিক্রি হয়ে গেছে। ওই দুই চাষি জানান, ধান, পাট ও সবজি চাষে এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু আট হাজার টাকার ফসলও ঘরে তোলা যায় না। তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর ধান, পাট, আলু ও গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করে লোকসানের বোঝা বহন করতে হতো। কয়েক বছর ধরে এলাকার বেশ কয়েকজন লিচু চাষ করছেন। তাদের দেখে অনেকেই এখন লিচু চাষ করে ভাগ্য বদলিয়েছেন। লিচু গাছ একবার রোপণ করলে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

লিচু বিক্রেতা ইয়াসিন মিয়া জানান, এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে প্রতি একশ লিচু বিক্রি করছেন।

লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে একশ দেশি লিচু ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চায়না-থ্রি জাতের ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *