গাড়ী উল্টালেও বেঁচে আছেন বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহ

গাড়ী উল্টালেও বেঁচে আছেন বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহ

গাড়ী উল্টালেও বেঁচে আছেন বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: গাড়ি উল্টে গেলেও বিস্ময়করভাবে বেঁচে আছেন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ। দেশের প্রখ্যাত এই বক্তা রাজধানীর মাযকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও লেখক।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৩ টায় চকরিয়া আল আমিন ফাউন্ডেশনের মাহফিল থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাগিচাহাট এলাকায় টার্নিং পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাবিবুর রহমান মিছবাহর প্রেস সেক্রেটারি গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (২৫ জানুয়ারি) শনিবার কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় এক ইসলামী ওয়াজ মাহফিলে আলোচনা শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে চন্দনাইশের বাগিচাহাট এলাকার মোড়ে গাড়িটি উল্টে খাদে পড়ে যায়।মুফতি হাবিবুর রহমানন মিছবাহসহ ৪ জন সফরসঙ্গী ঐ গাড়িতে ছিলেন, মিছবাহ সাহেব ছাড়া বাকিরা ঘুমে ছিলেন, গাড়িটি উল্টি খেয়ে শরীরে পানি লাগার অনুভুতি হলে গ্লাস ভেঙ্গে কোনরকমে সবাই বেরিয়ে আসেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে চন্দনাইশ সদরের বুলারতালুক তা’লীমুল ইসলাম মাদরাসায় তখন অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মুফতি হাসান মুরাদাবাদী। রোববার বেলা ১১ টার সময় আবারো ঢাকার পথে যাত্রা করবার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ নিজের সড়ক দূর্ঘটনার খবর জানিয়ে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছি। আপনাদের দোয়া বড়ই কার্যকর। এমন এক্সিডেন্টে মানুষ বাঁচার কথা নয়। কিন্তু সাসান্য কাটাছেঁড়া ব্যতিত তেমন কোনো ক্ষতিই হয়নি। গাড়িতে পাঁচজন ছিলাম।

একসিডেন্ট পয়েন্ট— বাগিচাহাট হাইওয়ে (দোহাজারী পটিয়ার মাঝখানে)। রাস্তায় এমন বাঁক, এখানে নাকি গত পঁচিশদিনে ধারাবাহিক প্রতিদিন একটি করে গাড়ি পড়েছে। আমরা পঁচিশতম।

যখন পড়ছিলাম তখন সবাই সজাগ। আমি বই লিখছিলাম। শুধু ইন্নালিল্লাহ পড়েছি। ভেবেছি এই তো শেষ । মৃত্যু যেন কেমন হয়! একটু পর অনুভব করি শরীর পানিতে ডুবছে। ভেবেছি এই বুঝি পানিতে দম বন্ধ হয়ে জীবন শেষ।

ভেতরে সফরসঙ্গীদের কান্না। জানালা খোলার চেষ্টা করলাম, কিন্তু খুলছে না। গ্লাস ভেঙ্গে হাত কেটেছে। কেটেছে আরও কয়েক জায়গায়। ভাঙ্গা থেকে বাইরে বেরোলাম। গাড়িটা আরেকটু ভেতরে গেলে আর রক্ষা ছিল না। গভীর পানির পুকুর।

জীবনে এমন একসিডেন্ট কেউ দেখেছে কী না জানি না। এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, কিন্তু বলার মতো তেমন কিছুই হয়নি আমাদের। গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো মালেরও ক্ষতি হয়নি। তবে গাড়িটা বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখে সবাই অবাক যে আল্লাহ আমাদের সুস্থ রেখেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *