ঘুষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

ঘুষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

দুর্নীতিকে না বলুন

ঘুষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

মাসউদুল কাদির : সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। প্রশাসনের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। এখন গাঁও গেরামেও এই ঘুষতন্ত্র সমাজের হতদরিদ্র মানুষের জীবনকে বিষিয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এমনি এমনি সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার কথা বলা হয় না। এটা সত্যিকার অর্থেই বড়ধরনের হুমকি হিসেবে অর্থনীতির গোড়া কেটে দিচ্ছে।

সমাজকে কলুষমুক্ত করতেই ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘুষ যে নেবে এবং ঘুষ যে দেবে উভয়েই অপরাধী। এ কারণে উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্পদের তো সীমা আছে। মানুষ আসলে অন্ধ হয়ে যায় অর্থের জন্য। কিন্তু এটা ভুলে যায় যে মরে গেলে কিছু সাথে নেওয়া যাবে না, কবরে একাই যেতে হবে।

ঘুষ গ্রহীতার পাশাপাশি ঘুষদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ঘুষ দেবে সেও যেমন দোষী, যে নেবে সে দোষী। তাহলে এভাবে যদি আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি, এটা নিয়ন্ত্রণ করলে আমাদের অনেক কাজ আমরা দ্রুত করতে পারবো। এ সময় তার সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা উপার্জন অনুযায়ী ট্যাক্স প্রদানের বিষয়টিও লক্ষ্য রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘কে কত ট্যাক্স দিল আর কে কত খরচ করল, তারও একটা হিসাবে নেয়া দরকার।’

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি ও বন্যা হয় এবং এটা স্বাভাবিক। তবে, এতে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং বন্যা মোকাবিলায় আমরা যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি সেটাও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঘুষের বিরুদ্ধে কেবল দুর্নীত দমন কমিশনই নয় সবাইকে তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিকভাবেও ঘুষের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঘুষের কারণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সঠিক জায়গায় যোগ্য প্রার্থীরা যেতে পারছে না। ফলে কাজে তৈরী হচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। দেশকে এগিয়ে নিতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষিত মানুষদের যেমন এগিয়ে আসা উচিত তেমনি সাধারণ মানুষকেও সচতেন হওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী একটি সূক্ষ্ম বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, কেবল যিনি ঘুষ নেন তিনিই অপরাধী নন। যিনি ঘুষ দেন তিনিও অপরাধী।

আজকাল আমরা মনে করি যারা ঘুষ দিয়ে চাকুরি নেন তিনি কোনো অপরাধ করছেন না। এটা অযৌক্তিক। যে কোনো অসৎপন্থাই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। ঘুষের বিরুদ্ধে তাৎপর্যময় এই তৎপরতা অব্যাহত থাকুক-এটাই আমাদের আশা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *