চরমোনাইর আখেরী মুনাজাতে দিল্লির মুসলমানদের জন্য প্রার্থনা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: সমাপ্ত হয়ে গেলো চরমোনাইয়ের তিনদিনের বিশাল আয়োজন ও লাখো মুসুল্লিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল।
মুসুল্লিদের রোনাজারি ও আমিন আমিন ধ্বণির মধ্য দিয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে শেষ হয় এ বছরের চরমোনাই মাহফিল। ফজরের নামাজের পর শেষ বয়ানের পর আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন আমীরুল মুজাহিদীন মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম।
তিনি আখেরি বয়ানের শুরুতেই আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেন এবং চরমোনাই মাহফিলে ইন্তেকালকারীদের জন্য দোয়া করেন। এরপর চরমোনাই তরিকার নিয়ম অনুসারে প্রায় ঘণ্টাখানেক বয়ান করে তিনিই আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।
আখেরী মুনাজাতে চরমোনাই পীর বাংলাদেশে শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। দোয়া করেন বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য বিশেষ করে ভারত, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত-নিপিড়িত মুসলমানদের জন্য ভাবে দোয়া করেন।
দেশের দুর-দূরন্ত থেকে আগত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের অংশগ্রহণে এ বছর এই ঐতিহাসিক মাহফিল গত ২৬ তারিখ জোহরের পর থেকে শুরু হয়ে শনিবার মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। মাহফিলে দেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ছাড়াও মালয়েশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ওলামায়ে কেরাম এবং মুসুল্লিরা অংগ্রহণ করেন।
মুনাজাতের সময় পুরো ময়দানজুড়ে এক গম্ভির মূহুর্তের সৃষ্টি হয়। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের পাপ-পঙ্কিলতা ও অসহায়ত্ব বর্ণনা করে অশ্রুশিক্ত নয়নে মুনাজাত করেন মুসুল্লিরা। কান্নার গুনগুন শব্দ এবং আমিন আমিন রব উঠে পুরো ময়দানজুড়ে।
এ বছরের মাহফিলে লোক সমাগমে বিগত সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে জানা যায়। বিশাল বিশাল আয়তনের প্রায় পাঁচটি মাঠের ব্যবস্থাপনা করার পরও লোকজন জায়গা দেওয়া যায়নি। চরমোনাই মাদরাসার চতুর্দিক মিলিয়ে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষ যেভাবে পেরেছে সেভাবেই একটু বসার ব্যবস্থা করেছে।
আগামী এক বছর পর আবার পুনরায় বাংলা মাসের অগ্রহায়নে চরমোনাই বাৎসরিক মাহফিলের প্রথম পর্ব এবং ফাল্গুন মাসে দ্বিতীয় পর্বের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে৷


