সড়ক দুর্ঘটনা
চালকদের সুমতি
ফেরাতে এখনই উদ্যোগ জরুরি
মাসউদুল কাদির :: সচেতন চালক না হলে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা থামানো যাবে না তেমনি সড়কে নানা রকম ঝঞ্জাল থাকলেও চালক বাস চালাতে পারেন না। এটা বুঝার জন্য বয়সে পরিপক্ক হওয়ার প্রয়োজন নেই। পত্রিকার পাতা খুললে সড়ক দুর্ঘটনা যেনো প্রতিদিনের রুটিন কাজ। এটা সড়কে ঘটতেই হবে। সড়কপথে যারা চলবেন তাদের জীবন এরকম ঝুঁকির মধ্যে রেখেই পথ চলতে হচ্ছে। এর কোনো প্রতিকার হচ্ছেই না। থামছেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল। শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। এত বেশি পরিমাণ গাড়িও কিন্তু রাস্তায় ছিলো না। কিন্তু এ দিনেই একসঙ্গে বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটলো বড় দুর্ঘটনা।
হবিগঞ্জে একসঙ্গে চলে গেলো নয় নয়টি প্রাণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে প্রাণ হারালো ছয় জন। এভাবে একুশ জনের একটা তালিকা একদিনেই গুনতে হলো। মানুষ নির্বিকার। স্তম্ভিত। এসব পরিবারের কী হবে? এ থেকে দেশকে বাঁচানোর কি কোনো উপায় নেই?
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গাছে ধাক্কা লেগে মাইক্রোবাসের ৯ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিলেটগামী একটি মাইক্রোবাস শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নবীগঞ্জ উপজেলার কান্দিরগাঁও নামক স্থানে পৌঁছালে এর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে এটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ জন মারা যান। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরও একজন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছয়জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে হতাহত সবার বাড়িও নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
দেশের সাধারণ মানুষ রাস্তায় না নেমে পারেন না। দু পয়সা রোজগার করেই পরিবার চালান। কিন্তু এরকম দুর্ঘটনায় যে সাধারণ মানুষদের এসব অভাবী পরিবারগুলোতে নেমে আসছে অন্ধকার-এ নিয়ে এখনই ভাবা জরুরি। আইনের যেমন প্রয়োগ দরকার তেমনি সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে আরও বহুগুনে। একাডেমিক শিক্ষা চালকের জন্য বাধ্য করে তাদেরকে প্রায়োগিক শিক্ষায় আরও বেশি উন্নীত করা দরকার। বছরে বছরে চালকদের নতুন নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকদের সচেতন করে তোলা দরকার। কেবল যাত্রীই মারা যাচ্ছে এমন কিন্তু নয়। সুতরাং চালকদের ভেতর থেকেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আওয়াজ ওঠা জরুরি। তাহলেই সড়কপথে মৃত্যুর মিছিল থামবে।


