চীনে মুসলমানদের রোজা রাখতে বাধা; চীনা পণ্য বর্জনের আহ্বান

চীনে মুসলমানদের রোজা রাখতে বাধা; চীনা পণ্য বর্জনের আহ্বান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ সারাবিশ্বের মুসলিমরা যখন পবিত্র রমজান মাস পালন করছে। ঠিক এ সময় চীনের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীনা সরকার। চীনা কর্তৃপক্ষ রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনের কারণে মুসলিমদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং মানবাধিকারকর্মীরা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং মানবাধিকারকর্মীরা এক বিবৃতিতে জানায়, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ মুসলিম পরিবারগুলোর ঘরবাড়িতে নিয়মিত অবস্থান করে ধর্মীয় আচার পালনেও বাধা দিচ্ছে ।

এর আগে গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, রমজানে রোযা রাখা, দাড়ি রাখা, মুসলিমদের মাথায় টুপি পরা, নিয়মিত নামাজ পড়া এবং অ্যালকোহল পরিহারসহ অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়গুলোকে ‘চরমপন্থার চিহ্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীনা কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় সংগঠিত আচার অনুষ্ঠানকে দলীয় আনুগত্যের জন্য হুমকি বলে মনে করে। এ কারণে তারা সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর কঠোর শাসন আরোপ করেছে । বিশেষ করে জিনজিয়াং অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন চলছে।

চীনে বেশ কয়েক দশক ধরে স্কুল ও সরকারী অফিসগুলোতে রমজানের রোযা রাখার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে।

তবে এ নিয়ে চীনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও নিরব রয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি করতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চীন সফরে গেলে জিনজিয়াংয়ে উইঘুর অঞ্চলের মুসলমানদের ওপর দমন, নির্যাতন, বন্দি করে রাখা এবং হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রসঙ্গে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ এবং উগ্রপন্থা ঠেকাতে চীন সঠিক কাজটাই করছে এবং এমনটা করার ‘অধিকার’ রয়েছে তাদের। তাছাড়া চীনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে সৌদি আরব অনধিকার চর্চায় আগ্রহী নয়’।

গত ২৭ মার্চ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে সংশোধনাগারের নামে এক ধরনের বন্দীশিবিরে আটকে রাখার ব্যাপারে বলেন, ‘ব্যাপারটি সম্পর্কে আমার যথেষ্ট জানা থাকলে আমি এ ব্যাপারে কথা বলতাম।’

তবে চীনে মুসলিমদের রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে দেশটির পণ্য বর্জনের আহবান জানিয়েছে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

সূত্র : এবিসি নিউজ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *