ছাত্রীর বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে বিপাকে মাদরাসার শিক্ষক

ছাত্রীর বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে বিপাকে মাদরাসার শিক্ষক

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশের নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীর এক মাদরাসার ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করে ঐ এলাকার একজন মাদরাসার শিক্ষক হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের হেল্পলাইনে (৯৯৯) ফোন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাহায্য নিয়ে বিয়ে থামানোর পর হাতিয়ার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা তরিকুল ইসলাম শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হন। মাওলানা তরিকুল জানান, তিনি যেই মাদরাসার শিক্ষক, সেখানকার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে জানতে পেরে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হন।

গত সোমবার (২৮ জানুয়ারি) মাদরাসায় গিয়ে জানতে পারি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া এক ছাত্রীর বিয়ে ঠিক হওয়ায় সে ক্লাসে আসেনি। তার অভিভাবকদের আমি বুঝিয়ে বিয়ে থামানোর চেষ্টা করি, বলেন মাওলানা তরিকুল। তার বোঝানো সত্ত্বেও ঐ ছাত্রীর পরিবার বিয়ে থামাতে রাজী না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাওলানা তরিকুল। শুরুতে আমি পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ এ ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানাই। তারপর তাদের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ সম্পর্কে জানানো হলে তিনি এবিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান মাওলানা তরিকুল। মাওলানা তরিকুল বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে সেদিন বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়নি।

মাওলানা তরিকুল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর মসজিদ থেকে তাকে এবং মসজিদের ইমামকে কয়েকজন যুবক ডেকে নিয়ে যায়। ঐ যুবকরা ছেলেপক্ষের লোক বলে ধারণা প্রকাশ করেন মাওলানা তরিকুল। কয়েকজন যুবক একপর্যায়ে আমাদের দু্ই জনের ওপর আক্রমণ করে। তারা লোহার রড এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের পেটায়। পরে দু’জনকে ধরে ঐ ছাত্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও বেঁধে রেখে মারধোর করা হয় বলে জানান মাওলানা তরিকুল। আমাদের চিৎকার শুনে একপর্যায়ে এলাকার লোকজন আসে এবং আমাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় র্ধষণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। শুক্রবার সকালে হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এ ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে তিনি গ্রামপুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশি হস্তেক্ষেপে বিয়ে সাময়িক ভাবে বন্ধ হলেও পরে আবার অন্য জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র : বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *